((সম্পর্ক))
((সম্পর্ক))
লেখকঃ---Love Story
পর্বঃ---১
--"কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ঘুরতে এসে ৭ বছর পর আপন পরিবারের দেখা মিলে যাবে তা কখনো কল্পনা ও করেনি। আমার সম্মুখে মা বাবা ছলছল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তাদের সঙ্গে বড় আপু ও " এতবছর পর তাদের দেখে বাকশক্তি যেন হারিয়ে ফেলছি, মুখ থেকে কোনো শব্দ উচ্চারণ করতে পারছি না চোখের কোনে পানি এসে ভিড় করছে । হাতের উল্টো পাশ দিয়ে অশ্রু গুলো বের হবার আগেই মুছে। তাদেরকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে লাগলাম। কেনো না তাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক নেই বলেই চলে। আপনারা হইত ভাবছেন বাবা মার সঙ্গে সম্পর্ক নেই মানে এটা আবার কেমন কথা_?এটা যদি ভেবে থাকেন তো আপনার মাঝে ক্লিয়ারলি ভাবে বলছি শুনুন -
আমি Love story। বাবা মার তৃতীয় তম সন্তান। মানে আমার ও বড় ভাই বোন দুইজনেই আছে। বাবা কলেজ মাষ্টার। মা গৃহিণী। সবদিক থেকে ভালোই চলছিলো হঠাৎ আমার ভালো থাকার কাল হয়ে মামাতো বোন প্রিয়া। সে পড়াশোনার সুবাদে আমাদের বাসায় আসে। আমি তাকে বোন হিসাবে সম্বোধন করতাম। কিন্তু ও কখনো আমাকে ভাই মানত না। অনেকবার চিঠির মাধ্যমে প্রেমপত্র নিবেদন করেছে। সেগুলো দেখে অনেক রাগান্বিত হয়ে সবার অগোচরে প্রিয়াকে বকতাম আর ও মাথা নিচু করে থাকত। রাগ কমে গেলো ওকে ভালোভাবে বুঝাতাম "যে সম্পর্কের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করা ঠিক না। পারলে অন্য কাউকে ভালোবাসার মানুষ হিসাবে বেচে নে।প্রয়োজনে আমি নিজে তোদের রিলেশনে সাপোর্ট দিবো। তবুও নিজেদের মাঝে এসব প্রেম ভালোবাসার কথা বলিস না প্লিজ
এভাবে প্রিয়াকে বুঝাতাম কিন্তু ও আমার কথায় কোনো তোয়াক্কা না করে। উল্টো ঠোঁট বাকিয়ে বলত" আমাকে ভালোবাসতে তোমার এত বনিতা কেনো। নাকি আমি অসুন্দরী, আমার রুপ নেই কোনটা বলো_?
প্রিয়ার এমন ধারা কথা শুনে রেগেমেগে ওখান থেকে সরে আসতাম। প্রিয়া যে অসুন্দরী ছিলো এমন কিছু না। ও বেশ সুন্দরী ছিলো। যেকোনো ছেলে তার রুপে অতি সহজেই ঘায়েল হয়ে যাবে। কিন্তু আমার বেলায় তা ভিন্ন হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে প্রিয়াকে আমি বোনের নজরেই দেখতাম। আর যাকে বোনের নজরে দেখা যায় তার প্রতি বাজে অনুভূতি কখনোই আসে না। আমার চিন্তা ধারা ছিলো যে" ভালো যদি বাসতে হই, তই অন্য কোনো মেয়েকে ভালোবাসবো। নিজের মামাতো বোনকে ভালোবেসে চরিত্রহীনতার পরিচয় কেনো দিবো
আমার এরকম চিন্তা ধারা যে কাল হয়ে দাঁড়াবে তা কখনো ভাবতে পারিনি। একদিকে প্রিয়ার প্রেম নিবেদনে রিজেক্ট করে দিতাম। আর ও আমাকে হুমকি দিয়ে বলত " আমাকে ভালো না বাসলে, তার ফল কিন্তু ভালো হবে না কথাটি মনে রেখো
প্রিয়ার এরকম ধারা কথা শুনে বেশি একটা রিয়াক্ট করতাম না, উল্টো হেসে বলতাম " তোর যা ইচ্ছা হই করতে পারিস। এ বলে সরে যেতাম। এরপর কিছুদিন ভালোই কেটে গেলো এরমধ্যে প্রিয়া আমাকে এসব প্রেম ভালোবাসার কথা বলে বিরক্ত করল না। এবং কথাও ঠিক ভাবে বলল নাহ। আমিও ভেবে নেয়। যে প্রিয়ার মাথা থেকে হইত প্রেমের ভুত বিদায় হয়েছে। তো একরাতে প্রিয়া আমাকে ফোন দিয়ে বলল " আমার রুমে একটু আসতো ইলেক্ট্রিসিটির প্রবলেম হইছে, অন্ধকারে থাকতে পারছি না
প্রিয়ার কথা মতো সরল মনে ওর রুমে যায়।গিয়ে লক্ষ্য করি অন্ধকারে রুমে কিছুই দেখা যাচ্ছে না, দেখে বললাম "মিমি তোর রুমে এত অন্ধকার কেনো (এবলে ফোনের ফ্ল্যাশ লাইট অন করলাম আর ও আমার কথার জবাব দিলো " বললাম নাহ ইলেক্ট্রিসিটির প্রবলেম হইছে
--"অহ আচ্ছা দেখছি
এ বলে ফোনের ফ্ল্যাশ লাইট নিয়ে ইলেক্ট্রি বোর্ডের দিকে গুটি পায়ে এগিয়ে লক্ষ্য করি সব কিছু ঠিকই আছে শুধুমাত্র লাইটের বাটন অফ করে রাখা হয়েছে । বেশিকিছু না ভেবে বাটনে এক ক্লিক করা মাত্রই পুরো রুমে আলোকিত হয়ে উঠল। মুখ ফিরে মিমির দিকে তাকাতেই আমার চোখ যেনো কপালে উঠে গেলো। মিমি নিজের একি হাল করেছে। নিজের জামা কিছু অংশ কেটে রেখেছে চুলগুলো এলোমেলো করে রেখেছে। ঠোঁটের লিপস্টিক ও এলোমেলো। এঅবস্থায় ওর রুমে
যদি কেউ আমাকে দেখে তো নিশ্চিত আমাকে খারাপ ভাববে। তখন নিজেকে ভালো প্রমান করার সুযোগ ওই থাকবে না। আনমনে ভেবে ভয়ে রীতিমতো কাপা কাপা সুরে তুতলিয়ে বললাম" প্রি..য়া. তো. র এ. অ..বস্থা কে.নো_?
--"তোমাকে সারাজীবনের জন্য আপন করে পাবার জন্য আমাকে যে এ নাটকটা করতেই হবে। নইলে তুমি যে আমার হাত ছাড়া হয়ে যাবে
প্রিয়া এ বলে দরজা আটকে দিলো। আমার বুঝতে আর বাকি রইলো না, যে এখানে কি হতে যাচ্ছে। ভয়ে খুব দুরুত্বই বের হতে যাবো যেই দরজার কাছে এগিয়ে যাবো প্রিয়া আচমকাই আমাকে জড়িয়ে ধরে কানের কাছে মুখ এনে বলল " অনেকবার তোমাকে প্রেম নিবেদন করেছি প্রতিনিয়ত আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছো আজ যে কান্ড টা আমি করবো। এটা করার পর দুই পরিবার মিলেই আমাদের বিয়েটা করাবে-
--"প্রিয়াকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে ঘৃণার সুরে বললাম" ছি ছি তুই এসব কি বলছিস আমি তোর ভাই। নিজের ভাই না হলেও তোর ফুফাতো ভাই আমি। একটু বুঝার চেষ্টা কর। আজ এমন কিছু করিস না যে আমাদের দুইজনকেই অসম্মানে পড়তে হই -
--"আমি তোমাকে ভাই বলে মানি নাহ। এখন আমাকে ভালোবাসবে কিনা বলো_?
--"অসম্ভব তুই মহাসুন্দরী হলেও তোকে আমি ভালোবাসতে পারবো না (রেগে)
--"ভালোবাসবে নাহ তো_? (রেগে)
--"কখনো নাহ-
এ কথা বলা মাত্রই মিমি চোখজোড়া বন্ধ করে কান্না করার আওয়াজে জোরে চিৎকার মেরে উঠলো। আর আমি মিমির কান্ড দেখে ব্যাকুব বনে চলে গেলাম। কি হচ্ছে এসব কিছুই তো বুঝতে পারছি না। কেমন জানি একটা ঘোরের মাঝে পড়ে গেলাম। মিমির চিৎকার শুনে বাবা মা ভাইয়া আপু তারা আসতে লেট করলো না। ভাইয়া দরজা ভেঙে রুমে প্রবেশ করে প্রিয়ার দিকে একবার তাকিয়ে। ভিষণ রেগে গিয়ে আমার কোনো কথা না শুনে হাতের শক্তি দ্বারা কয়েকটা গালে থাপ্পড় মারলো। তারপর বাবা এসে কয়েকটা থাপ্পড় মেরে বলতে লাগলো
--"ছি ছি তোর চরিত্রের এত অবনতি হয়েছে। শেষ পযন্ত নিজের মামাতো বোনের উপর রাতের অন্ধকারে এসে নরপশুদের মতো ঝাপিয়ে পড়লি। তোর মতো কুলাঙ্গার সন্তান থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো।আজ আমি তোকে তেয্য করলাম। আর কখনো নিজের অধিকার খাটিয়ে এ বাড়ির দরজায় পা রাখবি না। এখনি আমার বাসা থেকে বের হয়ে যাবি। কি হলো দাঁড়িয়ে আছিস কেনো বের হ
বাবা এ বলে আরও দুইটা থাপ্পড় ঠাস ঠাস করে গালে বসিয়ে দিলেন। বড় ভাইয়া রাগে দাতে দাত চেপে বলে উঠলো " কিরে শুনতে পারছিস না বের হয়ে যা বলছি
তাদের এসবকথা শুনে চোখ থেকে অঝোর ধারায় জল গাল বেয়ে পড়তে লাগলো। বকাবকি শুধুমাত্র মা আপু তারা দুইজনেই করল নাহ। তাদের দিকে একবার তাকাতেই মুখ ফিরিয়ে নিলো। এবার প্রিয়ার দিকে তাকালাম ও অনুশোচনায় মাথা নিচু করে ফেলল " হইত এমনটা হয়ে যাবে প্রিয়া তা ভাবেনি। ভেবেছিলো ছোট একটা নাটক করবে তারপর দুই পরিবার মিলে বিয়ের সিন্ধান্ত নিবে। এমনটা ভেবেই হইত এই জঘন্য নাটক টা করলো। কিন্তু এরকম তো কিছুই হবে না। মাঝখান থেকে প্রিয়ার জন্য আমাকে তেয্য হতে হলো। এখন সারাজীবনের জন্য এ বাসা আমাকে ত্যাগ করতে হবে। ব্যস সেদিন যে বাসা থেকে বের হয়ে আসছিলাম আজ ৭টা বছর পর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে তাদের সঙ্গে দেখা। তো তাদের পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছি দেখে মা কান্না করে আমার সামনে এসে বলল
!প্রিয়া
!
মন্তব্যসমূহ