((সম্পর্ক)) পর্ব ২ এবং শেষ পর্ব

গল্পঃ---সম্পর্ক
লেখকঃ---Love Story
পর্বঃ---২ এবং শেষ পর্ব 

নিজ পরিবারের সঙ্গে ৭ বছর পর দেখা অথচ আজ তাদের দেখেও আমার স্ত্রী ফারিয়াকে নিয়ে চলে যাচ্ছি। বাবা আমাকে দেখে চোখের জল ছেড়ে দিলো, মা নিজের আবেগকে সামলে রাখতে পারলো না আমার সামনে এসে কান্না জড়িত কন্ঠে বলল" বাবা কেমন আছিস এতদিন কোথায় ছিলি আমার কথা কি তোর মনে নেই -

মার কান্না জড়িত কথা শুনে চোখের অশ্রু গুলো যেন খুব দুরুত্বই এসে ভিড় করল। আপুও খুশি হয়ে বলল " ভাই তুই কেমন আছিস _?

নিজেকে যথেষ্ট স্বাভাবিক রেখে বললাম" 

 (আমি)--"হ্যা ভালোই আছি। 

(মা)--"বাবা আমার কথা কি তোর মনে পড়ে না। 
(আমি)--"মনে পড়লেই বা কি যায় আসে। তেয্য সন্তান রা তাদের আপনজনদের কাছে যাওয়া কোনো অধিকার নেই। থাকলে অবশ্যই সে দিধা ভেঙে যেতাম। 

(মা)--"তোর সঙ্গে এ মেয়েটা কে_? 

(আমি) --"ও আমার স্ত্রী ফারিয়া। 

(মা)--"আমাদের ছাড়াই তুই বিয়েটা করে ফেললি। 
(আমি)--"সম্পর্ক ঠিক থাকলে অবশ্যই জানাতাম.।

(মা)--"যা হবার তা হয়েছেই বউমাকে নিয়ে তুই বরং বাসায় আয়। আমরা সবাই একসঙ্গে থাকবো। 

(আমি) --"বাবা আমাকে তেয্য না করলে অবশ্যই ফিরে যেতাম।কিন্তু এখন তা সম্ভব না। এদিকে ফারিয়া কে নিয়ে আমি ভালোই আছি। 

(আপু) --"ভাই না করিস নাহ প্লিজ, অতীত ভুলে আমাদের বাসায় ফিরে আই। 
(আমি)--"যেখানে বাবাই আমাকে তেয্য করেছে। সে বাসায় কোন অধিকার নিয়ে যাবো। তাছাড়া সেদিন বাবা আমাকে তেয্য করে নিজ মুখে বলছে আর কখনো এ বাড়ির ছেলের অধিকার খাটিয়ে ফিরে আসবি না। কথাটি আজও আমার কানে গেথে আছে। 

(আপু )--"নিশ্চুপ 

(আমি)--"তেয্য সন্তান না হলে। এক দুই বছর পর ঠিকই নিজ বাসায় ফিরে যেতাম। তা আমাকে বলতে হতো না। যাই হক প্রিয়া এখন কেমন আছে। 

আমার মুখে প্রিয়া নাম উচ্চারণ করা দেখে মা আপু তারা দুজন ওই আমার দিকে অবাক হয়ে একবার তাকিয়ে মা বলতে লাগলো 

(মা)--"প্রিয়া এখন ভালোই আছে। তবে তুই যখন বাড়ি ছাড়া হলি,তখন প্রিয়া  আচমকাই  আত্নহত্যা করার চেষ্টা করছে কিন্তু ওর বাবা মার জন্য পারেনি। ওর বাবা মা যখন ক্ষিপ্ত হয়ে প্রিয়াকে জেরা করতে শুরু করে কেনো _? আত্নহত্যা করে নিজেকে শেষ করতে গিয়েছিলি " তখন প্রিয়া স্বীকার যায় যে ও নাকি তোকে অনেক ভালোবাসে। তোকে পাবার জন্য নাকি মিথ্যা নাটক করেছিলো। একথা তোর বাবা যখন জানতে পারলো তখন আমরা সবাই তোর কথা ভেবে কান্না করছি। আমার থেকে তোর বাবা অনুশোচনায় বেশি কান্না করছে।তোকে দেখে এখনো কান্না করছে কিন্তু তোর সামনে আসতে পারছে না। 

(আমি)--"নিশ্চুপ 

(আপু )--"মার কথা গুলো তো শুনলি এবার না হই। বাসায় চল। 

(আমি)--"নারে বেচে থাকতে আর তোদের বাসায় যাবো না। আচ্ছা বাদ দে কথা, বড় ভাইয়াকে দেখছি না যে। ও কোথায়_? 

(আপু)--"ভাইয়া আর ভাবি আমাদের রেখে একটু দূরে ঘুরতে গিয়েছে এখনি চলে আসবে। 

মা আপুর সঙ্গে গল্প সল্প করতে লাগলাম। তারা জানতে চাইলো বাড়ি থেকে চলে আসার পর কোথায় থাকলাম, প্রথমে কার কাছে থেকেছি, কীভাবে, চলছি, ফারিয়াকে বিয়ে করা নিয়ে গল্প করলাম। এভাবে অনকক্ষন প্রায় তাদের সঙ্গে কথা বললাম, কিন্তু বাবা আমার সামনে আসতে পারলো না। দূর থেকে মাথা নিচু করে চোখের জল ওই ফেলছে। হইত অনুশোচনায় আসতে পারছে না। তারপর বিদায় নিবার জন্য মাকে উদ্দেশ্য করে বললাম

(আমি)--"মা এবার আমি আসি। 

(মা)--"আসি মানে তুই এখন আমার সঙ্গে বাসায় যাবি প্রয়োজনে ভ্রমণ করা বাদ। 

--"সেটা কি আর সম্ভব (কিছুটা হেসে)

(মা)--"অসম্ভবের কি আছে, বউমাকে নিয়ে আমাদের সঙ্গে ওই থাকবি। 

(আমি)--"সম্ভব না। এখানে আমার কর্মজীবন সেট আপ করে নিয়েছি সুতরাং তোমাদের ওখানে যাওয়ার কোনো প্রশ্ন ওই আসে না 

(মা)--"বাবা এমন কথা মুখে আনিস নাহ। প্রয়োজনে তোর জন্য আলাদা বাসা করে করে দিবো তবুও আমাদের সঙ্গে চল। 

--"তোমরা আমার জন্য রাজপ্রাসাদও যদি বানিয়ে দাও তারপরেও তোমাদের ওখানে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নাহ। যদি আমাকে দেখতে ইচ্ছা হই, তো আমার বাসায় এসে দেখে যেতে পারো সমস্যা নেই। চলি এবার 

এ বলে ফারিয়ার হাত ধরে ওখান থেকে চলে আসার জন্য পা বাড়াবো। এমন সময় বাবা আমার সামনে এসে দাড়িয়ে অশ্রু জড়িত চোখ নিয়ে বলল " বাবা তোর যদি আমার বাসায় থাকতে সমস্যা হই। তো তোর জন্য আলাদা বাসা আমি করে দিবো। বউমাকে নিয়ে তুই ওখানেই থাকতে পারবি। তবুও দূরে সরে থাকিস না

বাবার কথায় কেমন জানি কান্না চলে আসছি। নিজেকে বেশ সংযত রেখে বললাম " আমি যেখানে আছি বেশ ভালোই আছি। আপনার অর্থ সম্পত্তির উপর বিন্দুমাত্র ও আশাবাদী আমি নই। যদি পারেন আমার ভাগের টা আপনার বড় ছেলেকে দিয়ে দিন। তাতে আমার কিছু যায় আসে না। চললাম ভালো থাইকেন 

বাবার সঙ্গে কথা বলার মাঝে বড় ভাই তার স্ত্রী নিয়ে উপস্থিত হলেন। আমাকে দেখে খুশিতে গদগদ হয়ে বলল" আমার তো বিশ্বাস ওই হচ্ছে না। সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে এসে তোর দেখা এভাবে হয়ে যাবে। কেমন আছিস তুই_? 

(আমি)--"হ্যা ভালোই আছি, এবার আমি আসি। 
(ভাইয়া)--"আরে আসি মানে, এতবছর পর তোর সঙ্গে দেখা,আর তুই চলে যাচ্ছিস কেনো। আমরা সবাই তো এখানে আছি। ভ্রমণ করা শেষ হলে আমরা একসঙ্গে বাসায় ফিরবো।
(আমি)--"কোন বাসায় যাওয়ার কথা বলছো। 

(ভাইয়া)--"যে বাসায় থেকে তুই বড় হয়েছিস। সে বাসায় যাওয়ার কথা আমি বলছি। 

ভাইয়ার কথা শুনে কিছুটা পাগলের মতো হেসে বললাম" তোমাদের বাসায় যেতে হলো তো অনেক আগেই যেতাম ৭ বছর তো আর এমনি এমনি পাড় করতাম না। যাই হক অনেক কথা হইছে এবার আমাকে ফিরতে হবে, ফারিয়া আসো 

এবলে ফারিয়াকে নিয়ে ওখান থেকে গুটি পায়ে চলে যেতে লাগলাম " আমার পিছনে মা বাবা ভাইয়া ভাবি আপু তারা অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। হইত ভেবেছিলো তাদের কথা মতো বাসায় ফিরে যাবো। সেটা তো আর হলো না। তাদের সকলের কথা অমান্য করে ফেললাম। আমার কথা গুলো শুনে তাদের মধ্যে মা আর বাবা বেশি কষ্ট পেয়েছে। মার চোখের জল আমি অনেকবার ওই দেখেছি। কিন্তু বাবার চোখে জল ঝড়তে কখনো দেখেনি। আজ তা দেখে একটু অবাক ওই হলাম। তবে আজ তাদের কথা শুনে বাসায় যাওয়ার জন্য মন্টা আনচান করছিলো। কিন্ত আগেকার কথা ভেবে যাওয়া হলো না।

বাসের মধ্যে বসে আনমনে ভাবছি, পাশের সিটে ফারিয়া আমার হাত জড়িয়ে বুকের মাঝে মাথা দিয়ে রেখেছে। দুইজনের মধ্যে কোনো কথা নেই পিনপিন নিরবতা বিরাজ করছে। বাসটিও ধীর গতিতে এবার ছেড়ে দিলো। এমন সময় ফারিয়া বলল" এত বছর পর বাবা মার সঙ্গে দেখা।আর তুমি তাদের সঙ্গে এমন বিহেব করলে যেনো তাদের সঙ্গে সম্পর্ক একবারে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছো-

ফারিয়ার কথা শুনে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বললাম" আমি তো আর ইচ্ছা করে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেনি। বাবাই তো আমাকে রাগে ঘোরে তেয্য সন্তান বলে ফেলছে। আমার জীবন গল্প তো আর তোমাকে নতুন করে বলতে হবে না। সব তো জানোই-

--"হ্যা তা ঠিক আছে, তারপরও আজ তাদের সঙ্গে একটু ভালোভাবে কথা বলতে পারতে। তা না করে উল্টো কষ্ট আঘাত দিয়ে কথা বললে। এখন নিশ্চয়ই ওনারা কান্না করছে_?

--"নিশ্চুপ -

বাসটি আপন গতিতে যেতে শুরু করল  আর এইদিকে ফারিয়া আমাকে বকতে লাগলো। ফারিয়ার বকা গুলো নিরবে শুনছি এখন ওর কথার উত্তর আমার কাছে জানা নেই। তবে এজীবনে বেচে থাকতে আর অই বাড়ির চৌকাঠে পা রাখবো না 

____________ সমাপ্তি _____________

(প্রিয় পাঠক ও পাঠিকা বিন্দু আপনারা সবাই কেমন আছেন নিশ্চয়ই ভালো আছেন। কিন্তু আমি ভালো নেই, ইদানীং বেশিক্ষণ টাইপিং করতে পারি নাহ মাথা ব্যাথা করে।  সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন খুব দুরুত্বই যেন ভালো হয়ে যায়। ইনশাআল্লাহ আবারও নতুন গল্পে দেখা হবে )

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

👸🏻দুষ্টো বউ👸🏻

প্রিয়তা

নুনু কাটার দিন...