((_আমার_স্বপ্ন)) পর্বঃ শেষ


এরপরের ঘটনা তো তোকে বল্লামই।আব্বু আম্মু শহর থেকে গ্রামে চলে এসেছে।
আমার সাথে জান্নাতের কোনো যোগাযোগ হয়নি।এভাবে গল্প করতে করতে কখন যে আমরা চট্টগ্রাম চলে এসেছি বুজতেই পারিনি।গাড়ি থেকে নেমে রায়হান আমাকে বিদায় জানিয়ে ওর কাজে চলে যায়।

আমিও আমার বন্ধু সরোয়ারের মেসে চলে আসি।এখন আমি একদম নিঃস হাতে নেই কোনো টাকা পয়সা, নেই কোনো কাজ। সসরোয়ারই আমার একমাত্র ভরসা।
বিপদে আপদে ও আমাকে সব সাহায্য করতো এবং এখনো করেই যাচ্ছে।ওর বাসায় এসে আমি প্রথমেই সিধান্ত নেই কোনো একটি কাজে যোগদান করবো।

কিন্তু শহরে কাজতো আর চাইলেই পাওয়া যায় না।আর আমার প্ল্যান ছিলো কাজের পাশাপাশি আমি জান্নাত কে খুজবো।

সরোয়ারের মেসে এসে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে বিশ্রাম নেই।সরোয়ার এখানের একটি কোম্পানি তে জব করে।
ওর কোম্পানি তে কোনো লোক নিচ্ছে না নাহলে আমি ওর কোম্পানিতেই জব করতে পারতাম।

আমার মাঁথায় এখন হাজারো চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে।আমি কিভাবে আগের পজিশনে যেতে পারবো,আগের সব ফিরে পাবো,তবে সবকিছু ফিরে পেলেও লেখা পড়াতো আর ফিরে পাবোনাআমার স্বপ্ন ছিলো অনার্স কমপ্লিট করে বিসিএস পরিক্ষা দিবো।

আমার সে স্বপ্ন আর কখনোই পূরণ হবেনা।কারণ জান্নাত এর স্বপ্ন পূরণের জন্য যে আমি আমার স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছি।
সরোয়ার আমাকে একটি কোচিং সেন্টারে পড়ানোর জন্য অফার করে।
কোচিং সেন্টারটি ওর পরিচিত একজন বড় ভাই এর।আমিও রাজি হয়ে গেলাম।কারণ কিছু না করার চাইতে অন্তত এই কাজটি করা অনেক ভালো।

যাকে বলে (নাই মামার চেয়ে কানা মামাই ভালো) ভালো ভাবেই আমার দিন যাচ্ছিলো। 
এর ভিতরে জান্নাতকে খুজাও অব্যাহত রাখলাম।কাজের পরে মেক্সিমাম টাইম ওকে খুজেই ব্যায় করি।
১ মাস পর একদিন হঠাৎ করে রায়হান আমাকে ফোন দেয় আর বলে তুই কাল বিকাল ৫ টায় আগ্রবাদ জাম্বুরা পার্কে চলে আয়।

আমি বল্লাম কেনো ভাবির সাথে পরিচয় করিয়ে দিবি নাকি ও বল্লো সেটা তুই এখানে এলেই দেখতে পারবি।
তুই কাল বিকাল ৫ টায় ভালো জামা কাপড় পড়ে চলে আসিছ।আমি বল্লাম আচ্ছা ঠিক আছে।

এই কথা বলে ফোন রেখে দিলাম।সরোয়ার কে ব্যাপারটা বল্লাম।সরোয়ার বল্লো আমিও কালকে ফ্রি আছি তোর সাথে আমিও যাবো।সরোয়ার যাওয়াতে আমার সাহস অনেকটা বেড়ে যাবে।
যাই হোক এর পরের দিন আমি আর সরোয়ার রওনা হই আগ্রাবাদ জাম্বুরা পার্ক এর উদ্দেশ্যে।
৫ টা বাজার ১০ মিনিট আগেই চলে আসি।এসে দেখি কেও নেই।রায়হান এর কোনো পাত্তা নেই।

৫ টা যখন বাজলো তখন দেখলাম রায়হান আসতিছে আর ওর সাথে বোরকা পরিহিত মুখ ডাকা একটি মেয়ে।
ভাবলাম হয়তো রায়হান এর gf হতে পারে।রায়হান আসলো আমরা ৪ জন একসাথে বসলাম।
এরপর রায়হান বল্লো বন্ধু সজীব আজকে তোর জিবনের সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজ আমি তোকে দিবো।
আমি মনে মনে ভাবতিছি হালা নিজেই তার সারপ্রাইজ নিয়ে বসে আছে আর আমাকে বলে নাকি সারপ্রাইজ দিবে।

এরপর রায়হান মেয়েটিকে বল্লো জান্নাত বোরকার মুখশটি খুলো।জান্নাত এর নাম শুনতেই আমি যেনো আকাশ থেকে পড়লাম।
আর থতমত খেয়ে গেলাম।আমি যেনো আমার নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছি না।
এরপর মেয়েটি মুখ খোলার আগেই আমাকে এসে জড়িয়ে দরলো।আমি কিছুই বুজতেছি না।

হাবলার মতো দাঁড়িয়ে আছি।এরপর মেয়েটি বলতিছে সজীব তুমি তোমার জান্নাত কে চিনতে পারছোনা।
আমি কন্ঠ শুনেই বুজে গেলাম যে এটা আর কেও নয় আমার জান্নাত।ঠাস করে ওকে বুক থেকে সরিয়ে ওর মুখ থেকে মুখোস টা খুল্লাম।
আর জান্নাত কে দেখে আমি বলতে গেলে ভয়ই পেয়ে গেলাম।কারণ একে জান্নাত তার জীবনে প্রথম আমাকে জড়িয়ে ধরলো,দুইয়ে তাও আবার এতো দিন পর একজন জেলফেরত আসামি কে।

এরপর জান্নাত আবার আমাকে জড়িয়ে ধরে বলতে শুরু করলো।যে রায়হান ভাই আমাকে সব ঘটনা খুলে বলেছে।আমি রায়হান কে বল্লাম কিরে রায়হান তুই জান্নাত কে কোথায় খুজে পেলি আমি পুরো শহর খুজে তাকে পাইনি।রায়হান বল্লো তুই কি করে ওকে খুজে পাবি বল।

আমি বল্লাম কেনো রায়হান বল্লো হাসপাতালে গিয়ে কি ওকে খুজেছিস।আমি কি বলবো বুজতে পারছি না।আমি আসলে ভুলেই গিয়েছিলাম যে ও ডাক্তার আর ডাক্তার দের ঠিকানা হলো হাসপাতাল।!!!!!!!!!! 

এরপর রায়হান বল্লো আমার এক আত্বিও কে নিয়ে আমি কাল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে যাই আর ওখানেই জান্নাত কে খুজে পাই।
আর তুই জান্নাত এর জন্য যা যা করেছিস আমি সব জান্নাত কে বলেছি।

এরপর জান্নাত বলতে শুরু করলো,আসলে সজীব ভাই আমি সত্যিটা জানতাম না বাবাও আমাকে কিছু বলেনি।
কিন্তু বাবা কাল আমাকে সব বলেছে।
আপনার জন্যই আজ আমি ডাক্তার হতে পেরেছি।
কিন্তু সেই আপনাকেই আমি চিন্তে পারিনি।আমি ভেবেছিলাম আপনি সত্যি সত্যি খারাপ পথে চলে গিয়েছিলেন।
আর মানুষ খুন করতে চেয়েছিলেন।কিন্তু কেনো আপনি সেটা করেছেন সেটা আমি জানতাম না।

তাই জেলে কখনো আমি আপনার সাথে দেখা করতেও যাইনি।এরপর আরও অনেক কথা বল্লো।
শেষে আমি বল্লাম তো বিয়ে সাদি করোনি??বাচ্চা কাচ্চা কয়জন?? জান্নাত ফিক করে হেসেদিলো।
আর বল্লো জীবনে ভালোইতো বেসেছি একজন মানুষ কে তাহলে অন্য কাওকে কিভাবে বিয়ে করবো।
আমি ভালোবেসেছিলাম আমার সজীব ভাইকে আর সেই সজীব ভাই ছাড়া অন্য কাওকে আমি কিভাবে বিয়ে করতে পারি। আমি এখনো বিয়ে করিনি। 

সীটটি আপনার জন্যই খালি পরে আছে।এরপর আমি বুজলাম জান্নাত ও তাহলে আমাকে মনে মনে ভালোবাসতো কিন্তু আমার মতোই সেও কখনো মুখ খুলে বলতে পারেনি।এরপর জান্নাত রায়হান আর সরোয়ার কে বল্লো ভাই আমি আপনাদের বন্ধুকে আমার সাথে নিয়ে যাচ্ছি এতে কি আপনাদের কোনো আপত্তি আছি।!!!!!!

রায়হান আর সরোয়ার বল্লো আমরা এতোদিন ধরে এই দিনটির জন্যই অপেক্ষা করছি।আমাদের আপত্তি কেনো থাকবে??তুমি সজীব তোমার সাথে করে নিয়ে যাও।
আমি আর জান্নাত জান্নাতের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।আর জান্নাত যাওয়ার আগে সরোয়ার আর রায়হান কে বল্লো ভাইয়া আমাদের বিয়ের কার্ড আপনাদেএ কাছে খুব দ্রুতই কিন্তু চলে যাবে।
আপনারা চলে আসবেন অবশ্যই।এই বলে আমি সজীব আর জান্নাত তাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে দিলো।

খুব ধুমধাম করে আমাদের বিয়ে হলো।আমার আম্মু আব্বু বোন রায়হায় সরোয়ার সবাই এসেছিলো।

~~~~~~~~~~~~~৫ বছর পর আমাদের একটি ফুটফুটে মেয়ে হয়েছে।ওর নাম রেখেছি তুলি।খুব দুষ্ট হয়েছে।সারাদিন অনেক জ্বালায় আর সে দেখতে  মাশাল্লাহ অনেক কিউট।ঠিক তার মায়ের মতো।
আমি এখন একটি ব্যাবসা করি। মোটামুটি এখন আমি সম্পুর্ন স্বচ্ছল আগের পুরনো অতিত সব ভুলে গিয়েছি।
 আজকে হঠাৎ করেই ডাইরিটি উল্টে ডাইরির লেখা গুলো পড়ে পুরনো সব কথা গুলো মনে পড়ে গেলো।
তাই ফেসবুকে পোস্ট করে আপনাদের সাথে সেয়ার করলাম।

---------------সমাপ্ত ------------

গল্পটি সম্পুর্ন কাল্পনিক। এর সাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই।

যারা পুরো গল্পটি পড়েছেন আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার নেক্সট গল্প (ফেসবুক প্রেম) আশা করি সবাই পড়বেন।।

সবার জন্য ভালোবাসা অভিরাম।সবাই আমদের এই গ্রুপকে সব সময় সাপোর্ট করবেন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

👸🏻দুষ্টো বউ👸🏻

প্রিয়তা

নুনু কাটার দিন...