((_আমার_স্বপ্ন)) পর্বঃ৩
আমি বলতে শুরু করলাম।জান্নাত কে আমি পছন্দ করতাম তুইতো সেটা জানিস তাই না??
রায়হান বল্লো হ্যাঁ জানি।আমি বল্লাম হুম জান্নাত এর জন্যই সব হলো।
তবে জানিস যেই জান্নাত এর জন্য এতো কিছু করলাম আমার ৫ বছর জেল হলো সেই জান্নাত কেই আমার মনের কথা বলতে পারিনি।
আর আমি এখন শহরে সেই জান্নাত কেই খুজতে যাচ্ছি।কারণ গত ৫ বছর ধরে তার সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই।রায়হান বল্লো কি বলতেছিস ৫ বছর জেলে একটি বারের জন্য জান্নাত তোর সাথে দেখা করতে আসেনি??আমি বল্লাম না।
ও হয়তো জানে আমি একজন অপরাধী সেজন্য আমার সাথে কোনো যোগাযোগ রাখেনি।
কিন্তু আমি কার জন্য অপরাধী হয়েছি সেটাতো জান্নাত জানেনা।
আর এগুলা বলার জন্যই আমি শহরে জান্নাতকে খুজতে যাচ্ছি।এখন আসল কাহিনিতে আসি।
আমি তখন অনার্স ২য় বর্ষের স্টুডেন্ট।
আর জান্নাত এর ইন্টার এক্সাম শেষ।
জান্নাত এর স্বপ্ন ছিলো সে ডাক্তার হবে শহরের নাম করে ডাক্তার।
যেই ডাক্তার কে সবাই এক নামে চিনবে।তাই জান্নাত ইন্টার এক্সাম দিয়েই মেডিকেল ভর্তি পরিক্ষার প্রিপারেশন নিতে শুরু করে।
সে দিন রাত ধরে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে মেডিকেলে চান্স পাওয়ার জন্য।
আমি যখনই ওদের বাসার কাছ দিয়ে যেতাম তখনই দেখতাম ও মনোযোগ সহকারে পড়েই যাচ্ছে।
ওর ডাক্তার হওয়ার এতো প্রবল ইচ্ছে দেখে আমারো একটি স্বপ্ন জাগে যে জান্নাত ডাক্তার হওয়ার জন্য যত রোকমের যতো সাহায্য লাগে সব সাহায্য আমি করবো তবে সেটা আড়াল থেকে।
যেই সাহায্যের কথা জান্নাত কখনো জানবে না।
তবে রায়হান তুইতো জানতিস জান্নাত দের পরিবার এতোটাও স্বচ্ছল ছিলো না ডাক্তারি পড়ার জন্য যে পরিমান টাকার প্রয়োজন তাদের কাছে তা ছিলো না।
তার বাবা সামান্য টাকার বেতনে সরকারি চাকুরী করে।সে টাকা দিয়ে কোনো রোকমে তাদের সংসার চলে।এরভিতরে তারা জান্নাতকে কিভাবে ডাক্তারী পড়াবে???
যাই হোক জান্নাত আব্বু আম্মু সবাই আমাকে চিনতো একই এলাকায় অনেক বছর যাবৎ আছি চেনারই কথা।
তাছাড়া জান্নাত আমার একজন ভালো বন্ধু এটা জান্নাতের পরিবারের সবাই জানতো।
জান্নাতের বাবাও আমাকে খুব ভালো জানতো।
জান্নাতের প্রিপারেশন নেয়া শেষ। এখন সময় এসেছে মেডিকেলে ভর্তি পরিক্ষা দেয়ার।
যথারিতি জান্নাত মেডিকেলে ভর্তি পরিক্ষা দিলো।অবাক করা বিষয় হলো জান্নাত একটি মাত্র মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরিক্ষা দিয়েছে আর সেটা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ।আর সেখানেই জান্নাত টিকে গেলো।
জান্নাত পরিবারে অনেক আনন্দ আমিও ঘটনাটি শুনে খুব খুশি হলাম।আর মনে মনে ভাবতে লাগলাম যাক মানুষের কাছে আমি ডাক্তারের স্বামী পরিচয় দিতে পারবো।
এটা ভেবে মুচকি মুচকি হাসছিলাম।কয়েকদিন চলে গেলো।এখন জান্নাত এর মেডিকেলে ভর্তির টাইম চলে আসলো।ভর্তি শেষ হওয়ার আর মাত্র ২ দিন বাকি।কিন্তু জান্নাত এখনো ভর্তি হয়নি।আমি খবরটি শুনেই থমকে যাই।এতো ভালো মেডিকেলে চান্স পেয়ে এতো ভালো রেজাল্ট করে ও কেনো এখনো ভর্তি হলোনা??
জলদি করে ওদের বাড়িতে গেলাম আর জানতে চাইলাম কি হয়েছে। জান্নাত কোনো ভাবেই বলছে না যে কেনো সে এখনো ভর্তি হয়নি।
এরপর জান্নাতের আব্বুর কাছে জিজ্ঞেস করলাম আংকেল আপনি তো বলুন কেনো জান্নাত ভর্তি হয়নি এখনো??জান্নাতের বাবা বল্লো শুনবে বাবা শুনবে কেনো জান্নাত এখনো ভর্তি হয়নি??
আমি বল্লাম শুনবো বলুন আপনি।জান্নাতের বাবা বলতিছে বাবা সজিব আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্ম নেয়া মানুষ। মেডিকেলে বাচ্চা কাচ্চা পড়ানোর মতো অর্থ আমাদের কাছে নেই।আমি বল্লাম কি বলেন আংকেল কতো টাকা লাগবে ভর্তি করতে??
তিনি বল্লেন বাবা সব মিলিয়ে ৫ লাখ টাকা লাগবে। কিন্তু আমার কাছে পঞ্চাশ হাজার টাকাও নেই।
তাই জান্নাতকে এখনো ভর্তি করাতে পারিনি।কথাটি শুনে আমি মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইলাম কিছু বলছি না।
এরপর সোজা জান্নাতদের ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় চলে আসি আর ভাবতে থাকি কি করা যায়।
জান্নাত ডাক্তার হবে এটাতো শুধু জান্নাতের একার স্বপ্ন না এটাতো আমারো স্বপ্ন।
আমার স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দেয়ার জন্য এখন যা করার আমাকেই করতে হবে।তাই সিধান্ত নিলাম যা করার কালকের ভিতরেই করতে হবে।
সারারাত ভেবে চিন্তে একটি সিধান্ত নিলাম।সকাল ৯ টা নাগাদ আমি রুপালী ব্যাংকের সামনে এসে দাড়িয়ে থাকি। আর ফলো করতে থাকি যে ৫ লাখ পরিমাণ টাকা ব্যাংক থেকে তোলার জন্য কেও গিয়েছে কিনা।
৩ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে একজন কে ব্যাংক থেকে ১০০০ টাকার ৬'৭ বান্ডেল নিয়ে বের হতে দেখলাম।মনে মনে সিধান্ত নিলাম যা করার ওনার সঙ্গেই করতে হবে।
ওনাকে দেখলাম একটি রিকশা নিয়ে রিকশার করে যাচ্ছে।আমিও তাকে ফলো করতে থাকি।
আর সূযোগ খুজতে থাকি যখনোই কোনো নির্জন জায়গা আসবে আমি তার উপর ঝাপিয়ে পড়বো।
অবশেষে এমন জায়গায় আসলাম যেখানে কেও নেই ছুরিটি নিয়ে তার সামনে যেয়ে দাড়ালাম।
আর বল্লাম হাতে থাকা ব্যাগটি আমাকে দেয়ার জন্য। সে কোনো ভাবেই আমাকে তার ব্যাগ দিবে না।
আমি তার দস্তা দস্তি সহ্য না করতে পেরে ছুরি দিয়ে তার হাতে একটি পোছ দিয়ে ব্যাগটি নিয়ে দৌড়ে জায়গা পরিবর্তন করি।
টাকা গুলো নিয়ে সোজা জান্নাতের বাবার কাছে চলে আসি।আর ওনাকে বলি আংকেল আমি জান্নাতের নামে একটি লটারির টিকিট কেটেছিলাম কালকে রাতে সেই লটারির ড্রো হয়েছে। আর আজকে আমি নাম্বার মিলিয়ে দেখলাম যে ৫ লাখ টাকার ৩য় পুরুষ্কার জান্নাত পেয়েছে।
আর এখন আমি টাকা গুলোও সংগ্রহ করে নিয়ে এসেছি।আপনি তারাতাড়ি জান্নাত কে ভর্তি করানোর ব্যাবস্থা করুন।এখন ২ টা বাজে ভর্তি করানোর লাস্ট টাইম ৫ টা পর্যন্ত। যাওয়ার সময় বলে দিলাম টাকার উৎস যাতে কারো সাথে সেয়ার না করে।উনি চলে গেলেন।
৪ঃ৩০ এ জান্নাত আমাকে ফোন দিয়ে বলে সে মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে। আমি সেই খবর শুনে খুশিতে আত্বহারা হয়ে যাই এরপর বাসায় এসে আমি যা যা করেছি সব আব্বু আম্মুর সাথে সেয়ার করি।আর এসব ব্যাপার যাতে তারা জান্নাতের কাছে কিছু সেয়ার না করে সেটাও বলে দেই।
~~~~~~~~~~সন্ধা ৭ টা নাগাদ আমার বাসায় পুলিশ আসে।তারা রাস্তার পাশে থাকা একটি সিসি ক্যামেরা থেকে আমার চেহারা নিশ্চিত করেছে।
আমি হাসি মুখে তাদের সাথে রওনা দেই।আর আম্মু আব্বু কে বলি আমাকে ছাড়ানোর জন্য যাতে কোনো চেষ্টাই তারা না করে।
কারণ আমি যেই পাঁপ করেছি সেটার শাস্তি অবশ্যই পেতে হবে।জেল হাজতে যাওয়ার পর আমাকে অনেক মারধর করা হয় টাকাগুলো কোথায় রেখেছি সেটা জানার জন্য আমি কোনো ভাবেই স্বীকার করিনি।
এরপর আদালতে নেয়া হলে সেখান থেকে ৫ দিনের রিমান্ডে দেয়া হয়।আমি তখনো মুখ খুলিনি।এরপর জজ সাহেব সময়ের অপচয় না করে ৫ লাখ টাকার জন্য আমাকে ৮ বছরের জেল দিলেন।
যেহেতু আব্বু আম্মুকে নিষেধ করেছি তারা যাতে না আসে আর তাছাড়া ৫ লাখ দেয়ার মতো সামর্থ তাদের ছিলো। যদি থাকতো তাহলে অবশ্যই আমাকে থানা থেকে নিয়ে যেতে।আর জান্নাতের কাছে খবর যায় খুন করতে যেয়ে আমি ধরা খেয়েছি।
চলবে???
বানান ভুল এর জন্য দুঃখিত।
আর ২ পর্ব দিবো নাকি এক পর্বতেই শেষ করে দিবো??আপনাদের মতামত আশা করছি।
মন্তব্যসমূহ