"প্রথম রাতের গল্প"

লেখকঃ----Love story 
.
কিরি কিরিং কিরিং,,,,
:- ফোনের স্কিনে তাকিয়ে দেখি
'মা' ফোন দিছে।
->আসআলামু আলাইকুম। মা কেমন আছো তুমি?
-> অলাইকুম আসসালাম। আমি ভালো
আছি। তুই কেমন আছো বাবা?
-> আমিও ভালো আছি তোমাদের
দোয়ায়। আব্বু, বড় নেতা সাহেব, কেমন
আছে?
-> সবাই ভালো। তুই কি আগামীকাল
আসতে পারবি বাবা?
-> হঠাৎ...! কোন সমস্যা মা?
-> সেরকম কিছু না, তোকে দেখতে
ইচ্ছে করছে তো তাই।
->আচ্ছা দেখি মা, অফিস থেকে ছুটি
নিতে পারলে আজকে বিকালে লঞ্চ
এ উঠবো।
...> মা ফোন টা রেখে দিলো। খুব
চিন্তা হচ্ছে হঠাৎ মা এই ভাবে আসতে
বললো। কোন কিছু না ভেবে বসের
কেবিনে গিয়ে ছুটি নিলাম দুই দিনের, মাঝখানে
শুক্রবার নিয়ে
তিনদিন হলো।
.
পাঠকদের তো আমার পরিচয় ই দেওয়া
হলো না।
.
আমি জিসান মাহমুদ। আব্বু-মা এর বড়
ছেলে। কিছুদিন আগে ইন্জিনিয়ারিং পাশ করে এখন
একটা প্রাইভেট
কোম্পানিতে জব করতেছি।
'
'---> আব্বু, মা, বড় নেতা সাহেব মানে
ছোট ভাই এই কয়জন মিলে আমাদের
পরিবার। আব্বু ব্যাবসা করতো এখন আর
করে না। আমি ছাড়া পরিবারের
সবাই গ্রামে থাকে।
.
যাক অফিস থেকে বাসায় এসে
সোজা বাড়ির উদ্দেশ্য নিয়ে লঞ্চে
উঠলাম, আর বড় নেতার পচ্ছন্দের খাবার
কিনলাম। ভোর ৬ টায় লঞ্চ ঘাটে
পৌঁছালো। সরাসরি বাড়িতে চলে
আসলাম। মা, আব্বু, নেতা সাহেব সবাই
খুশি। মা পচ্ছন্দের পিঠা বানাইছে।
গোসল সেরে সবাই মিলে নাস্তা
খেতে বসলাম, হঠাৎ নেতা সাহেব
বলে উঠলো "ভাইয়া তোর জন্য আমরা
মাইয়া দেখতে যামু আইজগো"।
.
"মাইয়া"...! মানে,,,, নেতায় বলে....;
মাইয়া মানে বুঝো না??? ইশ চাকরি
পাইয়া বরিশাইল্লা ভাষা ই উনি এখন
বুঝে না। মাইয়া মানে, আাপনার জন্য
বউ দেখতে যাবো।
.
কি??? মা, বলদে কি কয় এগুলো???? ছোট
ভাইকে আগে বলদ বলে ক্ষেপাতাম,
তাই আজকে আমায় বিরিংচি
মারলো, তাই আমিও পুরানো দিনের
কাঁটাঘায়ে লবন মারলাম।
.
মা বলে,,, বলদে যা বলছে তাই সত্য।
.
নেতায় ক্ষেপে উঠে বলে আমি
"বলদ"...? তাহলে ভাইয়া, তুই একটা
হাবলা, "মাইয়াগো লগে কথা কইতে
ভয় পাও, আবার বড় বড় কথা কও" । মা এই
হাবলা ডারে বিয়া করান লাগবে
না, হের থেকে তোমরা আমারে
বিয়া করাও।
.
আব্বু বলে উঠলো থাম তোরা। জিসান
শোন বাবা তোর মা এর বয়স হয়েছে,
আমারও বয়স হয়েছে, এখন ঘরে একজন
মেয়েলোকের দরকার। কবে না কবে
মরে যাই তার আগে বউয়ের মুখটা তো
দেখা দরকার। আমি আর কিছু না বলে
মাথা নিচু করে সব শুনতেছি। মা বললো
তোর কোন পচ্ছন্দ থাকলে আমাদের
বলতে পারো। হঠাৎ করে নেতা
চেঁচিয়ে বললো, "এহে এই হাবলা
করবে প্রেম, তা আবার মাইয়াগো
লগে "। এ কাওসার তুই এখান থেকে যা
বলছি মা রাগদিলো নেতাকে।
নেতার নামই কাওসার। আমি চোঁখ
রাঙ্গাইলাম নেতার দিকে। মা বলে
কিরে কিছু বলিশ না যে। আমি বললাম
মা আমার পচ্ছন্দের কেও নেই, তোমরা
যাকে পচ্ছন্দ করবে তাকেই আমার
পচ্ছন্দ। নেতা বললো, "আমাদের স্কুলের
ওখানে এক নূরি পাগলী থাকে তাকে
মা পচ্ছন্দ করছে, এখন তাকে বিয়া
করবি..?" এইটা বলে নেতা দৌড় দিছে,
ও বুঝছে এইবার মা এর হাতের মার ওর
জন্য ফরয হইছে। মা নেতাকে কিছু না
বলে আমাকে বলে, আগামী কালকে
এক জায়গায় মেয়ে দেখতে যাবো
আমাদের সাথে যাবি তুই?... আমি
বললাম, তোমরা গেলেই হবে, আমার
যেতে হবে কেনো..?.... :
:-
আব্বু বললো, আমরা মেয়ে দেখেছি,
তবে আনুষ্ঠনিক ছাড়া। মেয়ে অনার্সে
পরে, অনেক খোঁজ নিয়ে দেখছি
মেয়ে ভালো, মেয়ের পরিবার ও
ভালো। মেয়েরা এক ভাই দুই বোন,
বাবা নেই, ভাই বড়। এই বোন সবার
ছোট। বড় ভাই ডাক্তার। আমি বললাম
তাহলে বিয়ার তারিখ ঠিক করে
আমাকে জানাইয়ো, আমার মেয়ে
দেখা লাগবে না, আমার বিশ্বাস
আছে তোমাদের পচ্ছন্দ কখন ও খারাপ
হবে না। মা বললো আলহামদুলিল্লাহ,
তাহলে আত্মীয় স্বজন সবাইকে
জানাতে হয়। আর মেয়ের ভাই আর
মেয়ের মামা তোকে তোর অফিসে
গিয়ে দেখে আসছিলো, আমরা তোর
ঠিকানা দিছিলাম, তাদের তোকে
পচ্ছন্দ হয়েছে তাই তোর মতামত
জানলাম।
.
আমি রাতে জানালা দিয়ে
আকাশের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে
অতিতের কথা ভাবছি। পাঠক এখন
আপনি যা চিন্তা করছেন সেই ধরনের ই
কিছুই....।
'
'....> আজকে আরিশার কথা খুব মনে
পড়ছে। ডিপ্লোমা পড়া অবস্থায় ওর
সাথে আমার বন্ধুত্ব হয়। আর বন্ধুত্ব
থেকে ভালোবাসা। ওই ছিলো আমার
জীবনের প্রথম ভালোবাসা। আমি
ছিলাম ওর জীবনে দ্বিতীয়
ভালোবাসা। ওর অতীতের ঘা
শুকাতে গিয়ে, আবার ঘা টা কাঁচা
হয়ে গেছিলো, আমার সাথে সম্পর্ক
হবার পর। খুব ভালোবাসতাম
আরিশাকে। আরিশাও খুব
ভালোবাসতো আমাকে।
.
ওর ফেইসবুক আইডির ইমেইল-পাসওয়ার্ড
আমি জানতাম, আমার আইডির ইমেইল-
পাসওয়ার্ড ও জানতো। হঠাৎ একদিন ওর
আইডিতে লগইন করলাম। ওর আইডিতে
দেখলাম ও আরো একটা ছেলের সাথে
খুব বেশি চেটিং করছে। এবং
ছেলেটাকে ওর ছবি দিছে।
ছেলেটা জানতে চেয়েছে ওর
বয়ফ্রেন্ড আছে কি না? ও না বলে..।
:-
আমি মেসেজ গুলো দেখে ভীষন কষ্ট
পাই, তবুও এ ব্যাপারে কিছু জিঙ্গাসা
করি নি। ওকে বিশ্বাস করতাম,
ভাবছিলাম ও আমাকে কোন দিন
ঠকাবে না।
....:-
আস্তে আস্তে খেয়াল করলাম ওর
ব্যবহার দিন দিন বদলে যাচ্ছে, খুব কষ্ট
পেতাম ওর ব্যবহারে। ওকে যখন
ফেইসবুকে একটিভ থাকতো তখন আমার
সাথে চেটিং করতো, আমি
মেসিজিং করতাম আর অপেরামিনি
দিয়ে ওর আইডিতে ঢুকতাম, দেখতাম ও
অন্য ওই ছেলেটার সাথে চেটিং
করতো এবং ওই ছেলের মেসেজ গুলো
ডিলেট করে দিতো। খুব খারাপ
লাগতো ওর এই সকল কর্মকান্ডে।
.
একবার ওর একটা সমস্যা হয়, নিজে না
খেয়ে ওকে টাকা দিয়ে ওর সমস্যা
সমাধান করি।
:-
হঠাৎ একদিন মা অসুস্থ হয়ে পরে, এই জন্য
গ্রামে চলে যাই। তখন ফ্রেব্রুয়ারি
মাস ছিলো। আরিশা ১৪ ই ফ্রেব্রুয়ারী
আমাকে বরিশাল আসতে বলে, কিন্তুু
মা এর অসুস্থতার জদন্য না করে দেই। তখন
ও আমাকে বলে সারাজীবন বাবা-মা
এর কাছে থাইকো আমার সাথে
দেখা করতে হবে না।
.
তখন ওরে বলি এখন ই আমার বাবা-মা
কে সহ্য করতে পারো না আর ভবিষৎ...?
তখন ও ফোন কেঁটে দেয়।
.
রাতে চিন্তা করলাম যার কাছে
আমার বাবা-মা এর মূল্য নেই, তার
কাছে আমারও মূল্য নেই।
:-
কিছু দিন ওর সাথে কথা হয় নাই।
ফেইসবুকে ওই ছেলের সাথে ওর
প্রতিদিন রোমান্টিক কথা হতো।
.
বরিশাল এসে আরিশাকে ফোন দিয়ে
বলি তোমার সাথে আমার সম্পর্ক
রাখা সম্ভব না, তুমি আমকে ভুলে যাও।
ও কান্না করে অনেক। আর বলে আমার
কি দোষ? আমি বলি..." তুমি এখনই আমার
বাবা-মা কে সহ্য করতে পারো না,,
আর ভবিষৎ এ কি করবে সেটা আমার
ধারনা হয়ে গেছে। ও কান্না করতে
থাকে। আমারও কষ্ট হয়েছে অনেক। দুই
দিন ভাত খাই নি, কান্না করতে করতে
চোঁখ ফুলে গেছিলো।
..... >
এ ভাবেই আমার ভালবাসা কে শেষ
করেছিলাম। তারপর থেকে আজ অবধি
আর কারও সাথে প্রেম ভালবাসা
গড়ে উঠে নি।
....*.....*......*
.
হঠাৎ মা বললো, কি ভাবছো ওখানে
দ্বাড়িয়ে..?এখনো ঘুমাও না কেনো...?
তারাতারি শুয়ে পর আগামীকাল
সকাল সকাল উঠতে হবে। আর কিছু না
ভেবে ঘুমিয়ে গেলাম।
.
সকালে মা এসে বলে এখনও ঘুমাচ্ছো...!
ওঠ ; তোর মামি, বোন রা চলে আসছে।
আমি মাকে বলি, মা আমি যাবো না,
আমার এখনই ঢাকা যেতে হবে অফিস
থেকে বস ফোন দিছিলো রাতে।
.
কথা গুলো মাকে মিথ্যা বলছিলাম,
মেয়ে দেখতে যেতে ইচ্ছে করছিলো
না। নাস্তা করে বাসা থেকে বের
হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
.
সন্ধ্যা হবার আগেই ঢাকা পৌঁছে যাই।
বাসায় গিয়ে আব্বুকে ফোন দেই। আব্বু
বললো কখন গেলি..? ফোন দেই ফোনও
ঢুকছে না।
আমি আব্বুকে বললাম নেটওয়ার্ক
সমস্যা ছিলো হয়তো। আব্বু বললো শোন
বাবা, মেয়ে আমাদের সবার পচ্ছন্দ
হয়েছে এখন বিয়ের তারিখ ঠিক করি,
শুভ কাজে দেরি করতে নেই।
.
:- তোমরা যা ভালো মনে করো।
আমাকে জানাইও।
;-- ঠিক আছে।
.
সব কিছু মাথা থেকে বাদ দিয়ে
কাজে মনোনিবেশ করি। একদিন
অফিসে বসের সাথে একটা প্রজেক্ট
এর বিষয় কথা বলছিলাম, এমন সময়
মায়ের ফোন আসলে। বসকে বলি স্যার
বাসা থেকে মা ফোন দিছে একটু কথা
বলি।
:- বস বললো,, ধরো।
.হ্যালো মা।
:- জিসান , বিয়ের তারিখ ঠিক করছে
তোর আব্বু, আগামী মাসের ৫ তারিখ,
সোমবার দিন। কলমা - কাবিন মেয়ের
বাড়িতে হবে এবং অনুষ্ঠান ওই একই
সাথে। আমাদের হাতে আর বেশি সময়
নেই বাবা, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঘরের
লক্ষিকে ঘরে তুলে আমাদের অপরিপূর্ণ
সংসার টাকে পরিপূর্ণ করতে হবে।
তোর কোন আপত্তি আছে বাবা?
:- মা। তোমরাই তো সব। তোমরা যা
করছো সব আমার ভালোর জন্যই করছো,
আর আমি আগেই তোমাদের বলেছি,
তোমরা যা বলবে আর যা করবে তাতে
আমার কোন আপত্তি বা কোন
অভিযোগ নেই। মা এখন আমি অফিসে,
বাসায় গিয়ে তোমায় পরে ফোন
দিচ্ছি।
:- ঠিক আছে বাবা।
.
কি ব্যাপার জিসান খুব খুশি খুশি
লাগছে। বস বললো।
.
স্যার মা ফোন দিছিলো। ওই বিয়ে
ঠিক করছে আমার। একটু নিচে তাকিয়ে
বলছি।
.
হা হা হা কনগ্রাজুলেশন জিসান।
.ধন্যবাদ স্যার, দোয়া করবেন।
.মিষ্টি না খেতে পারলে তো দোয়া
করা যাবে না...!
.স্যার সেটা খেতে হলে তো,
আমাদের গ্রামের বাড়ি যেতে হবে।
.যাবো,,,তাতে সমস্যা নেই।
...*****....
:- বসের কেবিন থেকে বের হয়ে
বাকি কাজ গুলো শেষ করে রুমে চলে
আসি।
.আর হবু বউকে নিয়ে একটু ভাবনায় মগ্ন
হয়ে পরি।
:-
. আর এক সপ্তাহ পর আমার বিবাহ। কিন্তুু,
সব আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশী যারা
আছেন সবাইকে আব্বু কার্ড দশ দিন
আগেই দিয়ে ফেলছে।
.
বাড়িতে সব কিছুর আয়োজন খুব বড়
করেই হচ্ছে নেতা সাহেব ফোনে
বলছিলো। খুব কাছের আত্মীয়, ভাই,
বোনেরা সবাই বিবাহের কাজে
ব্যাস্ত ছিলো, শুধু মাত্র আমি ছাড়া।
.
হঠাৎ করে একটা মুচকি হাসি দিলাম,
তার পিছনে অবশ্য কারণ আছে। কারণটা
হলো আমি আমার হবু বউয়ের নামই
জানি না। ফোনটা হাতে নিয়ে
মাকে ফোন দিলাম। হ্যালো মা
কাওসারকে ফোনটা একটু দাও তো।
:- কাওসারের সাথে কি কথা বলবি?
মা বললো...!
:- আরে মা, ওরে তুমি দাও ওই ওর কি
লাগবে তাই।
:- ও আচ্ছা,, তুই লাইনে থাক দেখি ও
কোথায় আছে।
:- হ্যালো ভাইয়া, কি বলবি
তাড়াতাড়ি বল, বেশি কথা বলার সময়
নাই, আমার অনেক কাজ আছে। কাওসার
বলছে...!
:- ওই বেশি কথা বলিছ না, মা এর কাছ
থেকে ফোনটা নিয়ে দূরে যা কথা
আছে আপনার সাথে আমার লক্ষি
ভাইয়া। "একটু পাম মারলাম"..... পাঠক
এইটা ভাইবেন না যে ওকে পাম মেরে
ভুলাচ্ছি। ওই সোজা বাংলায় চাপা
মারলাম আরকি।
:- কি বলবি বল দূরে আসছি।
:- এ মানি,,,,,, তোর ভাবির নাম কি?....
আস্তে বলিছ কেও জেনো না শুনে।
:- ও আল্লাহ কয় দিন পর যার বিয়া, হে
এহন প্রর্যন্ত তার বউয়ের নামই জানে
না। ও মা তোমার বড় পোলার বউয়ের
নাম কি..?, সেটা তোমার পোলারে
একটু হানি কও।
:- ওই বলদ চিল্লাস কেন, মা জানলে
আমার ইজ্জত শেষ। ভাই ভালো
চিল্লাস না তোর কি লাগবে বল আমি
সব নিয়ে আসবো তোর জন্য।
:- হইছে চাপা মারিস না। চাকরি
কইরা শুদ্ধ খেলায়। নিজে ঈদের সময়
আমার পকেট থেকে কত টাকা চুরি
করছো আবার বড় বড় কথা কয়।
:- ভাই থাম। আমার ভুল হইছে তোর
কাছে ফোন দিয়া। আমি রাখি এখন।
:- হইছে রাখ, তার আগে আপনার বউয়ের
নাম টা শুনেন,,, ভাবির নাম সাজমি।
অনেক সুন্দর, আমাকে একটা চুমাও
দিছে। ভাইয়া তোর একটা ছবি নিয়া
যাইতে বলছিলো ভাবি। কিন্তুু ঘরে
তোর যে ছবি আছে তা দেখলে ভাবি
তোরে রাইখা আমাকে বিয়া করতে
চাইবে, তাই ভাবলাম তোর কপাল
পুইড়া তো আমার লাভ নাই শত হইলেও
তুই আমার বলদ ভাই, আর এমনিতেই আমার
পিছনে অনেক মেয়ে ঘুরে, তোর
পিছনে একটা কুত্তাও তো ঘোরে না,
আর বলদের পিছনে কে ঘোরবে বল...!
:- আমি বাড়ি আসি একবার, দেখবি
তোর কি হাল করি।
:- আসেন। ভাবিকে উল্টা পাল্টা
বইলা তোমার খবর বারোটা বানিয়ে
দেবো।
:- হে কাজ সারছে, বিয়ের আগেই
ভাবি..!
:- রাখি আরেকটু পর ভাবি ফোন দিবে,
তার সাথে একটু প্রেমের আলাপ করতে
হবে।
:- ভাইয়া তোর ভাবির ফোন নাম্বার
টা একটু দিবি?
:- জি না,, রাখি।
:- টুট টুট টুট কেঁটে দিলো।
...****....
. চালাকের একষট্রি,,, বাষট্রি হলে যে
কি করতো, একমাত্র আল্লাহ ই ভালো
জানে। .... মনে মনে বললাম।
:--
এর পর আস্তে দিন যাচ্ছে আর
বিবাহের দিন খুব নিকটে চলে আসছে।
আমি বিবাহের আগের দিন রওনা
দিবো। আর দুই দিন পর বাড়ি তে
যাবো। মা ফোন দিয়ে বললো
বিবাহের সব কিছু কিনা শেষ, শুধু
আমার যা দরকার তা নিয়ে আসতে
বলছে।
:
কাওসার, মা, আব্বুর জন্য কিছু
কেনকাটা করি, আর নিজের জন্য অল্প
কিছু। কিন্তুু হবু বউয়ের জন্য আমি কিছু
কিনি নাই, তাই ভাবছি কি নিবো...!
আমার এক বন্ধুকে ফোন দিলাম ওর নাম
নাহিদ এবং ওকে কিছু টাকা নিয়ে
আমার বাসায় আসতে বলি। অবশ্য টাকা
বাসায় চাইলেও পাইতাম, ইচ্ছা করেই
চাই নাই।
:-
রাকিব সন্ধ্যায় বাসায় আসে এবং
দুজনে মিলে ঘুরতে বের হই। এবং আরো
কিছু বন্ধুদের ফোন দেই। সবাই একত্ত হয়ে
গ্রামের বাড়ি যাবার কথা বলি অবশ্য
অনেক আগেই সবাইকে দাওয়াত দেয়া।
তারপর সিদ্ধান্ত হলো সবাই একত্রে
আগামীকালকে গ্রামে যাবো।
:-
বিকালে সবাই লঞ্চে ওঠলাম। রাতে
সবাই আড্ডা দিচ্ছি হঠাৎ সুজন বলে
ওঠে কালকে এমন সময় বন্ধু আমার ভোমর
হয়ে মধু খাওয়া ব্যাস্ত থাকবে।
.
আমি বলি...! শালা মাইর চিনো।
.
ওরা সবাই হো হো করে হেসে দিলো।
......***......
সকাল সকাল বাড়ি পৌঁছে গেলাম।
বাড়ির অবস্থা দেখে সবাই হাঁ করে
আছি। এতো সুন্দর করে সাজানো যা
ধারনার বাহিরে। যাইহোক মা- আব্বু
মুরব্বী সবাই কে সালাম দিয়ে ঘরে
যাই।
.
আব্বু বললো আমরা একান থেকে বেলা
১১:০০ টার সময় রওনা দিবো। ওখানে
মসজিদে কলমা-কাবিন হবে তার পর
বাড়ির ভিতরে নিবে।
.
আমরা ১১:০০ টার সময় রওনা দিলাম,
ওখানে পৌঁছাতে ১২:০০ টার বেশি
লাগছে। আমি বাড়ি থেকে
শেওড়ানি না পরে শুধু বেলেজার শুট
পরেই বের হই।
.
তাদের বাড়ির সামনে ই মসজিদ
ছিলো। সর্বপ্রথম কলমা- কাবিন হয়।
কাবিন শেষে আমরা অপেক্ষায়
ছিলাম আমাদের কিছু আত্মীয় র জন্য।
কাবিন এর সময় মেয়ে পক্ষ থেকে
মেয়ের মানি আমার বউয়ের ভাই,
মামা, আর তাদের চাচা ছিলো আর
বাড়ির কিছু মুরব্বি। এছাড়া আর অন্য
সবাই রান্নার কাজে আয়োজন
পরিচালনায় ব্যাস্ত ছিলো।
কাবিনের সময় যারা ছিলেন তারা
ছাড়া অন্য কেও আমাকে চিনতো না,
আর আমি বড়ের পোশাকেও ছিলাম
না।
..
হঠাৎ এক বন্ধু বলে জিসান আমরা সব
বন্ধুরা ভিতরে যাবো, আর বলবো
আমরা বড়ের বন্ধু ভাবিকে দেখতে
আসছি। আর এমনিতে তোকে কেও
চিনে না।
.
আমি প্রথমে না করি, কিন্তুু ওদের
জোড় করায় না করতে আর পারলাম না।
.
আমরা ১৩ জন বন্ধুরা একসাথে বাড়ির
ভিতরে ঢুকলাম অনেক বড় প্রান্ডেল
করা। আমার এক বন্ধু একজন জিঙ্গেস
করলো কনের ঘর কোনটা?.... ওই লোকটা
বললো,, এই প্রান্ডেল এর পিছনে
বিল্ডিং ঘর টা। লোকটা জিঙ্গেস
করলো আপনারা কারা...? রাকিব
বললো আমার বর পক্ষ, আমরা সবাই বরের
বন্ধু। ভাবিকে দেখবো তো তাই
ভিতরে আসলাম। লোকটা একটা হাসি
দিয়ে বললো, আমি কনের কাজিন,
আপনারা সবাই ঘরে চলুন।
.
লোকটার সাথে আমরা ঘরে ঢুকলাম।
আমার সামনে ছিলো রাকিব, সুজন
তারপর আমি। ঘরের ভিতরে অনেক
মেহমান। ঘর টা পুরো অগোছালো।
আমি তো ভয়ে ছিলাম যদি চেনা
কেও দেখে ফেলে তাহলে ইজ্জত
প্লাস্টিক। লোকটা ঘরের ভিতরে
একটা শিড়ির নিচে দ্বাড়িয়ে
তানিশা বলে একটা মেয়ে কে ডাক
দিলো। উপর থেকে উঁকি দিয়ে বলে
কি ভাইয়...? লোকটা মানি, এখন আমার
শালা বা সুমন্ধি যাই হোক,,,, সে
বললো...! এই ভাইরা বরের বন্ধু, সাজমি
কে দেখতে আসছে "মানি আমার বউ",
তাদের কে উপরে নিয়ে যা।
মেয়েটা বললো আপনারা উপরে আসুন।
.
রাকিব আমার নাম হাসিব বলে যাতে
কেও নামে বুঝতে না পারে। রাকিব
বলে হাসিব তুই আগে উঠ...! আমি বললাম
না, রাকাব তুই আগে উঠ। রাকিব
বিসমিল্লাহ বলে উপরে উঠে, আমরা
ওর পিছনে পিছনে সবাই উঠলাম।
.
তানিশা উপরের অন্য মেয়েদের বলে
এই তোমরা একটু জায়গা দাও বেয়াইরা
আসছে তাদের ভাবিকে দেখতে।
সবাই একটু ফাঁকা হয়ে দূরে সরে
গেলো, খাঁটের উপরে দেখি আমার
ভাবি ও থুক্কু মানি আমার বউ ঘোমটা
মাথায় দিয়ে বসে আছে। মাঝখান
থেকে সজিব বলে উঠলো তেরো হাত
ঘোমটা থাকলে আমরা ভাবিকে
দেখবো কি ভাবে...? তানিশা বললো
আচ্ছা দেখাচ্ছি, এই সাজমি আপু লজ্জা
পেয়ো না এরা তোমার দেবোর।
রাকিব বললো দেবোর না ভাসুর
সেটা পরে পাবো আগে ঘোমটা
তুলেন। আমাদের এই বন্ধু হাসিব,
জিসান এর বিয়ের জন্য নিজের বউকে
ভাবি বানিয়ে এই বিয়েতে উপস্থিত
হইছে সবার আগে ও দেখবো। সব বন্ধুরা
বললো হ্যাঁ ঠিক বলছো রাকিব। ওরা
ধাক্কা দিয়ে সবাই ভাবির সামনে
আনলো আর তানিশা ভাবির মানি
বউয়ের কাপড় তুললো, নিচ থেকে
উপরে তাকাতেই আমার চোখে
চোখে পরল, মুখ বন্ধ কোন হাসি নেই, আর
আমি লজ্জা নিচে তাকাচ্ছি, বন্ধুরা
তো ধাক্কা আর খোঁচা মারতে আছে।
তানিশা বললো এবার আপনাদের
দেখা হয়েছে..? মাসুম বললো না,
আরএকটু। তানিশা বললো বাকিটু
বাড়িতে নিয়ে দেইখেন এখন আসুন
তো।
.
ওরা সবাই হাসতে হাসতে নিচে
নামছে, আর আমি চোরের মতো নিচে
তাকিয়ে আছি।
.
যাক ভালোভাবে ই সামনের গেটে
এসে বন্ধুরা মিলে হাতে হাত
মিলালাম যেহেতু আমরা মিশন সফল
করতে পারছি তাই। হঠাৎ রাকিব
বললো, দোস্ত তুই যে ভিতু, ভাবি সবসময়
তোকে পেদানির উপর রাখবে।
.
আমি বললাম বাদ তে তোরা। এর ভিতর
আমাদর মেহমান সবাই চলে আসছে।
একজন ভিতরে গেছে বর পক্ষ ভিতরে
আসবে তারা জেনো প্রস্তুুত থাকে
তাই।
.
আমি মসজিদের রুমের ভিতরে ঢুকে
নিজের পোষাক রেখে বর এর পোশাক
পরলাম। তারপর বাহিরে বের হই সুজন
বললো দোস্ত তোকে সেই লাগছে। চুপ
থাক।
.
গেটে লাল ফিতা টানিয়ে উপরের
সেই মেয়ে গুলো দ্বাড়িয়ে আছে।
আমি মুখে রুমাল দিয়ে হাঁটছি, যখন
গেটের সামনে দ্বাড়ালাম একজন
বললো বড় কে একটু দেখি রুমাল একটু
সরানো যায়...? রাকিব বললো অবশ্যই
দেখতে পারবেন। ও আমাকে বললো
রুমাল সরিয়ে ফেল। আমি যখন রুমাল টা
সরিয়ে ফেলি তখন গেটের সামনের
সবাই হাঁ করে আছে এবং বললো
দুলাভাই আপনার খবর আছে। আমি চুপ চুপ
দ্বাড়িয়ে আছি। রাকিব বললো খর
পরে কইরেন, এখন ভিতরে যেতে
দিবেন তো। তানিশা বললো কই
যাবেন,,,,, আগে আমাদের পাওনা
মিটান। আমি রাকিবের কানে
কানে বললাম তোর পকেটের
প্যাকেট টা দিয়ে দে। রাকিব
প্যাকেট দিছে। তারা বললো
প্যাকেটে কি। রাকিব বললো
প্যাকেটে আপনাদের পাওনা জিনিস
আছে আর তার সাথে আপনাদের দুলা
ভাই গিফট হিসাবে দিলাম। তানিশা
বললো এহে কি গিফট, মজা পরে বুঝবে।
একজন এতটু শরবত খাইয়ে একটা কেঁচি
দিলো, কেঁচি দিয়ে ফিতা কেঁটে
ভিতরে ঢুকলাম। কাওসার আমার ডান
হাত ধরে হাঁটছিলো আর বাম পাশে
বন্ধুরা ছিলো। আব্বু আগেই ভিতরে
চলে গেছে। মা বাড়িতে রয়েগেছে।
.
সবাইকে সালাম দিয়ে স্টেজে
গিয়ে বসলাম। আমার সাথে কাওসার
ও কয়েকটা বন্ধুরা বসেছে। এর ভিতর
হাত ধৌঁয়াতে আসছে আমার ছোট্র
শালিরা তাদের চাঁদা দিতে দিতে
আমার পকেট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। মনে
মনে নিজের গুষ্ঠি উদ্ধার করছি
কেনো যে বিয়া করতে আসলাম....! বড়
একটা মুরগী, মাছ, গোশত দিলো আমি
তো লজ্জায় কিছুই খেতে পারছি না,
রাকিব ও অন্য যারা আমার সাথে
বসছে ওরা সবাই হাঁসের মতো খাইতে
আছে। আর কাওসার মেয়েদের সাথে
ফাজলামো করছে। একটু আশে পাশে
তাকিয়ে দেখছি উঁকি মেরে
অনেকেই আমার দিকে তাকিয়ে
আছে তখন যে বিরক্ত আর লজ্জা
লাগছিলো।
.
অবশেষে খাবার পর্ব শেষ। এখন
আমাদের বিদায়ের পালা। কনে কে
মানি আমার বউকে আমার পাশে
বসানো হয়েছে, লাল বেনারশি পরা,
পুরো হাতে মেহেদী দিয়ে আঁকা
এগুলো যা হালকা ভাবে আড়চোখে
দেখছি। তখন ও মাথায় ঘোমটা
দেওয়া। কাওসার আমার পাশে এসেই
একটা মারলো ধাক্কা আমার শরীর
গিয়ে ওর সাথে ধাক্কা লাগলো
সবাই হো করে হাসি দিলো।
.
আমাদের সামনে সবাই চেয়ারে
বসলো এবং সবার সাথে পরিচয়
করিয়ে দিলো। অবশেষে সাজমির
ভাই মানি আমার সুমন্ধি ভাই এসে
আমার আব্বুর হাতে সাজমির হাত
দিয়ে বললো,,, তালই সাহেব আজ
বাবা- মা থাকলে তারাই সব করতো,
আজ তারা নেই আপনি এখন সাজমির
বাবা আপনি দেখে রাখবেন আমার
বোনটাকে। আব্বু বললো তা নিয়ে
ভাববেন না, আমার তো মেয়ে নেই
আসা করি ওর কোন অজত্ন হবে না।
.
সুমন্ধি ভাই আমার হাত আর আমার
বউয়ের হাত এক করে বললো ভাই আমার
বোনটার দায়িত্ব আজ থেকে তোমার
ও খুব আদরের ছিলো, ওর কোন অজত্ন
কইরো না। আমি মনে মনে ভাবছি, কি
সুন্দর নরম হাত আর আমার হাত
কংক্রিটের মতো শক্ত এ হাত দিয়ে
কেমনে যত্ন করবো। সাজমি হু হু করে
কেঁদে দিলো ওর ভাইও কাঁদছে।
তাদের কান্না দেঁখে আমার ও
কান্না পাচ্ছে। তাদের কান্না ঘর
থেকে আপদ বিদায় করে আর আমার
কান্না পাচ্ছে ঘরে আপদ যাবে বলে।
.
যাক সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে
আমাদের গাড়ি ছেড়ে দিলো।
আমাার পাশে বউ ফুঁপিয়ে কাঁদছে।
তবে গাড়িতে ভেজাল মসলা অর্থাৎ
আমার ছোট ভাই ও ছিলো। ও হঠাৎ
সামনে থেকে চিল্লায় বললো,,,
ভাইয়া ভাবি কাঁদছে একটু সান্তনা
দাও আর তোমার রুমাল টা দাও
ভাবিকে। আমি ওকে কিছু না বলে
পকেট থেকে রুমাল টা বের করে তার
সামনে দেই, রুমাল টা নিয়ে চোখের
পানি মুছছিলো। মনে মনে ভাবছি
এতক্ষন তো চোঁখে পানি থাকার কথা
না। আল্লাহ জানে ভেটকান্দিনি
হলে তো আমার কপালে দুর্ভোগ
আছে।.... """ পাঠক আপনারা এখন নিশ্চয়ই
ভাবছেন 'ভেটকান্দনি' কি...? আসলে
যারা একটু বেশি কাঁদে মানি কিছু
হইলেই কেঁদে দেয় তাদের বরিশালের
ভাষায় ভেটকান্দনি বলে।"""""
.
যাইহোক মাঝখানে আর বউয়ের সাথে
কোন কথা হয় নাই।
......******.....
:-
গাড়ি বাড়ির সামনে এসে পড়ছে
অনেক মানুষের ভিড়। সবাই বলছে এই
নতুন বউ দেখে লই। আমি কোন মতে
গাড়ি থেকে নামি। মা এসে বললো,
সবাই পাশে যাও। গাড়ির সামনে
থেকে ঘর প্রর্যন্ত কাপড় বিছানো। মা
সাজমি কে গাড়ি থেকে ডান পা
দিয়ে নামতে বললো ও ডান পা দিয়ে
নেমে ক্পড়ের উপরে দ্বাড়ালো।
তারপর ও মায়ের পা ধরে সালাম
করলো মা সাজমি কে জড়িয়ে ধরে
বললো ঘরে চলো মা। আমি চোঁট
দুটোকে এক করে একটু ভুরো জাগালাম,
ভাবছি এই আধুনিক যুগে এখনও
শ্বাশুড়িকে এত সম্মান,,...! আল্লাহ ই
ভাল জানে কয়দিন এই সম্মান থাকে।
.
বন্ধুরা সবাই খোঁচা মেরে বললো চল
নতুন দুলা ঘরে চলো। ঘরে গিয়ে দেখি
একটা নামাজের হোগলায় বউকে
বসিয়ে রাখছে, মা বললো জিসান
এখানে এসে বস। মাঝখান থেকে
কাওসার এসে ই হোগলায় বসে পড়লো
এবং মাকে বললো মা খাবার আনো
ভাবি আর আমি খাবো....! মা বললো
জিসান কে বসতে দে। ও তো নাছোড়
বান্দা, আমি গিয়ে কোন রকম ওর
পাশে বসলাম। মা বাটিতে দুধ আনলো
এবং প্রথমেই তার বউমাকে এক চামচ
দিলো, আমি তখন ভাবলাম এ বাড়িতে
আমার অধিকার শেষ। তারপর কাওসার
কে দুধ দিলো, আমাকে যখন দিবে তখনই
কাওসার বললো ভাইয়ার খাওয়া
লাগবে না ও তো এখন প্রতিদিনই
খেতে পারবে.....!! সবাই হো হো করে
হেঁসে দিলো আমি মাঝখান দিয়া
দিছি একটা চিমটি কাওসার কে।
.
যাক সব শেষে রাত ৯ টা বাজে সবার
সাথে কথা বলতেছিলাম এর ভিতর
বউয়ের কাছে যেতে পারি নি আর
নিজের পোষাক ও বদল করতে পারি
নি।
.
কতক্ষন পড় এক ভাবি এসে সবাইকে
উদ্দেশ্য করে বললো,,, সবাই জিসান কে
ছেড়ে দাও বাকি কথা কালকে বইলো
জিসানের এখন যেতে হবে। বন্ধুরা
বললো,, দোস্ত যা, বেস্ট অফ লাখ। আমি
বলি,, শালারা বাঁশ অফ লাখ বল।
রাকিব ডাক দিয়া বলে,, দোস্ত
বিলাই মারতে ভুল কইরো না কিন্তুু।
আমি ওর কথায় একটা মুচকি হাসি
দিলাম।
.
ভাবির সাথে যখন আমার রুমে ঢুকি
মানি আজকের জন্য যেটা বাসর ঘর
আরকি। দেখি পুরো রুম ফুল দিয়ে
সাজানো খাঁটের উপর বউ ঘোমটা
দিয়ে বসে আছে, আর তার সামনে
একটা লাল ফিতা বাঁধা, মামাতো,
খালাতো বোনেরা একটা ট্রেরে
নিয়ে দ্বাড়িয়ে আছে। ভাবি বললো
বউয়ের কাছে যেতে হলে বকশিশ
দিয়ে যেতে হবে। মনে মনে বন্ধুদের
গালি দিচ্ছি,,, শালারা বেস্ট কইয়া
পাঠাইছো আর এখন বাঁশ যাইতেছে,,
পকেট থেকে ২ হাজার টাকা দিলাম।
ভাবি অন্য সবাইকে বললো তোমরা
এখন যাও সবাই। ভাবি সবাইকে বিদায়
করে আমাকে বললো,,, তোমাদের ভাত
খাবার সব টি টেবিলে আছে, সাজমি
তোমার জন্য না খেয়ে আছে একসাথে
খেয়ে নিও, আর কিছুর প্রয়োজন পড়লে
আমাকে বইলো। আমি বললাম ঠিক
আছে। ভাবি আমার গালে একটা
আঙ্গুল দিয়ে ধাক্কা মেরে বললো মধু
রেখে গেলাম। আর সাজমি কে বললো
ভোমর আসছে সাবধানে থেকো। এই
কথা বলে একটা হাসি দিয়ে চলে
গেলো।
.
:- পুরো রুম জুড়ে আমরা দুটো মানুষ কিন্তুু
দুজনেই নিস্তব্দ কারো মুখ থেকেই
কোন কথা বের হচ্ছে না। হঠাৎ করে ই
আমি বললাম দূর মশা...! তারপর আবার
নিরবতা। আমি ভাবছি সালাম দেয় না
কেনো , পা ছুঁয়ে একটু সালাম করবে তা
না করে বসে আসছে। একটা কাশি
দিয়ে নিজেই সাহস করে বললাম,
আপনার ক্ষুধা লাগছে...?
:- হঠাৎ করে ই সালাম দিল আমাকে।
আমি অবাক হলাম এবং চোখ বড়ে করে
তাকিয়ে কোন মতে সালামের উত্তর
দিলাম। এবং ভাবতেছি, সিনেমার
সাথে মিলে যাচ্ছে দেখি। এবং
খাবার এর কথা জিঙ্গেস করায় বললো
ক্ষুধা লাগেনি।
:-আমি তাকে মানি আমার বউকে
জিঙ্গাস করলাম দেখুন আমরা দুজনেই
দুজনার কাছে অপরিচিত, যদি একটু
পরিচিত হয়ে নিলে ভাল হতো।
:- এখন থেকে আপনি আমার স্বামী আর
আমি আপনার স্ত্রী, আমার মনে হয় এর
থেকে আর বেশি পরিচয়ের দরকার হয়
না।
:- মনে মনে বললাম বাহ বুদ্ধি আছে,
তবে বউয়ের কাছে হার মানা যাবে
না। আপনি যা বলছেন তা ঠিক ওই নাম
কি, কার কি পচ্ছন্দ এই সব আর কি।
:- কি বলেছেন এই সব,,,! বিয়ের আগে
আমার নাম আপনি জানতেন, আপনার
নাম ও আমি জানতাম এর ভিতর অজানা
আর কি রইলো। আর আমি আপনার স্ত্রী
সুতরাং আপনি না তুমি করে বললে
খুশি হবো। আর কখন থেকে ওই জায়গায়
দ্বাড়িয়ে আছেন আমার কাছে আসতে
কি আপনার ভয় লাগে..? আর আমি বাঘ
না ভাল্লুক যে কাছে আসলেই
আপনাকে খেয়ে ফেলবো। কথা গুলো
খুব রেগে রেগে বলতে ছিলো।
:- আসলে আগে কখন ও বিয়ে করেনি
তো, তাই এই পরিস্থিতিতে কি করবো
বুঝতে পারছিলাম না।
:- এবার খাঁট থেকে নেমেই আমার
সামনে এসে বললো, আপনি এতো
বোকা কেনো....? আর বিয়ের আগে
একটা বার ফোন ও দিলেন না এমন
কেনো আপনি...? এই বলেই কাঁদো
কাঁদো কন্ঠে আমাকে জড়িয়ে ধরলো।
আমি লিবার্টি অব স্ট্রাচু এর মত
দ্বাড়িয়ে কথা শুনছি ও হতবাক হয়ে
যাচ্ছি, এগুলো কি ঘটছে।
:- কাওসার কে দিয়ে কতবার আপনার
সাথে কথা বলতে চেয়েছি, তার
কারণ ছিলো আপনি আমাকে দেখেন
নি, এমনকি আমার ছবিটা প্রর্যন্ত না,
তাই একটু ভয়ে ছিলাম, আমি আপনার
স্ত্রী এর মর্যাদা পাবো কি না। প্রায়
কাওসার এর সাথে কথা হতো ওর কাছ
থেকে আপনার সর্ম্পকে সব জানাতে
চেয়েছি ও আমাকে আপনার সর্ম্পকে
আমাকে সব বলতো, আপনার কি পচ্ছন্দ,
কি পচ্ছন্দ না, ও আমাকে আপনার অতীত
সর্ম্পকে ও সব বলেছে। বিশ্বাস করুন ওর
কথা শুনে আমি অবাক হয়ে গেছিলাম
একটা মানুষ কি ভাবে একটা
মেয়েকে এতো ভালবাসতে পারে...?
নিজে না খেয়ে তাকে সাহায্য
করে। শুধু মাত্র বাবা- মা এর সর্ম্পকে
হেয়ো কথা বলার জন্য, কষ্টের
ভালবাসা বির্সজন দিতে পারে,
আসলে সেই মানুষটাই তো সত্যি
কারের পুরুষ। বিশ্বাস করুন আজ
নিজেকে অনেক ভাগ্যবতী মনে হচ্ছে
আপনার মতো মানুষের স্ত্রী হতে
পেরে। আর কাওসার কিন্তুু আপনাকে
অনেক ভালবাসে।
:- এতক্ষন সব কথা শুনছিলাম কি বলবো
বুঝতে পারছিলাম না। আসলে আজ
থেকে আপনি আমার...?
:- আবার আপনি...!
:- দুঃখিত। আজ থেকে তুমি শুধু আমার
স্ত্রী না, একজনের বোন, বাব- মা এর
মেয়ে, কারো ভাবি, কারো জ্বা
ইত্যাদি। আগে তুমি একা ছিলে,
তোমার দ্বায়িত্ব কম ছিলো, আর এখন
তুমি একা না তোমার অনেক বড় একটা
পরিবার অনেক দ্বায়িত্ব, অনেক কিছু
নির্ভর করবে তোমার উপ, সুতরাং
তোমাকে সে অনুযায়ী চলতে হবে।
আমার বাবা-মা, ভাই এবং অন্য আত্মীয়
স্বজন কে নিজের বাবা- মা আত্মীয়
স্বজনের মতো দেখবে। তারা খুশি
থাকলেই আমি খুশি।
:- সেটা আপনি ভবিষৎ ই দেখতে
পাবেন। আর আমাকে মাফ করবেন
প্রথমে আপনার সাথে উচ্চ স্বরে কথা
বলার জন্য। আসলে আমি খুব আবেগ প্রবন
হয়ে গেছিলাম তো, দয়া করে আপনি
কিছু মনে করবেন না। আর আমি একটু
অল্পতেই রেগে যাই। আপনি
সেওরানি চেন্জ করুন তারপর একসাথে
খাবো।
:- একটা কথা বলি তোমাকে...!
:- হ্যাঁ বলুন, অনুমতির কি আছে।
:- আসলে তুমি খুব ভালো, দেখছো
আমরা খুব অল্পতেই কতটা স্বাভাবিক
ওপরিচিত হয়ে গেলাম। আসলে
তোমাকে দেবার মতো আমার কাছে
দামিয় কোন উপহার নেই, তবে ছোট্র
একটা জিনিস কিনছিলাম, আমার
বউকে দিবো বলো। তখন আমার পকেট
থেকে দুটো কানের দুল বের করে
দেখালাম। অফিস শেষে একদিন
ফুটপাত দিয়ে হাঁটছিলাম তখন এক লোক
কিছু জিনিসপত্র বিক্রী করছিলো,
তার ভিতরে এই দুল দুটো পচ্ছন্দ হয় তাই
কিনছিলাম।
:- দুল দুটো হাতে নিয়ে আমাকে
বললো, আপনার কাছে দামীয় কিছু চাই
না, শুধু চাই ভালবাসা, আর বন্ধুশুলভ
আচরন।
:- চলো আল্লাহ এর কাছে দু রাকাত নফল
নামাজ পরে নতুন জীবন শুরু করি। যাতে
করে আল্লাহ আমাদের দাম্পত্ত জীবন
সুখি করে।
:- নামাজ শেষ করে, খাবার খেয়ে
শুতে যাবো তখনই কাওসার এসে
বললো,, ভাইয়া ভাবির কাছে একটা
পাওনা আছে সেই হিসাব টা শেষ
করেই চলে যাবো। আমি বল্লাম কি
পাওনা...?
:- তখন সাজমি বললো, ও কাওসার
এদিকে আসো তোমার পাওনা
মিটিয়ে দেই। তখন কাওসার এর গালে
একটা চুমু দিলো, আর কাওসার তার
ভাবিকে ধন্যবাদ দিলো। যাবার সময়
আমার কানে কানে বললো,,, ঢাকা
যাও তার পর প্রতিদিন একশো একটা
পাবো। আমি বললাম, তোকে আজ,,,
তখনই হাসি দিয়া দৌড় দিলো।
:- আমি বললাম ভালই সবাই পাওনা
মিটায়, আমার পাওনা তো আর মিটে
না।
:- তখন সাজমি বললো, সময় হলে সব
মিটবে, শুনেন নি সবুরে মেওয়া ফলে।
চলুন শুয়ে পরি।
: - আমি বললাম চলো।
:- সাজমি বললো,, ঘুমাতে পারবেন না,
আমার সাথে সারা রাত গল্প করবেন।
:- আমি বললাম ইস, সকালে উঠতে হবে
তারাতারি, নইলে মানুষ জন অনেক
কিছু মনে করবে।
:- ও তখনি আমার বুকে মাথা দিয়ে
বললো, কি মনে করবে হ্যাঁ..! তখন ওকে
জড়িয়ে ধরে ওর কপালে একটা আলতো করে চুমু একেঁ
দিলাম। ও পরম আদরে আমাকে জড়িয়ে
ধরে রাখলো।
সমাপ্ত।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

👸🏻দুষ্টো বউ👸🏻

প্রিয়তা

নুনু কাটার দিন...