((আর বলবো না ভালোবাসি))


✍️✍️Love story  ツ

-"আমিঃ এই পাখি দাড়াও।
পাখিঃ হুম,বলো।
আমিঃ আই লাভ ইউ। 
ভেবছিলাম চড় মারবে কিন্তু মারলো না।ভালোই হয়েছে মারে নি।কিন্তু একি ওতো লাঠি নিয়ে আসছে।কি করবো বুঝতেছি না।দাড়িয়ে থাকব নাকি দৌড় দিবো।দশ সেকেন্ড সময় নিলাম।নাহ,আমার ভালোবাসার দরকার নাই। জুতাটা হাতে নিয়ে দিলাম দৌড়। তখন পাখি পিছন থেকে বলল,
পাখিঃ কই যাস? আয় তোরে ভালোবাসা দেই।
আমিঃ দরকার নাই তোর ভালোবাসার। তুই থাক।

-দুইদিন পর আবার যাইতাছি।আজকে মনে হয় কপালে শনি আছে।ওই দিকে পাখি বসে আছে।ওর কাছেই গেলাম।কিন্তু নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে।যাতে করে কিছু হলে পালাতে পারি।
আমিঃ ওই শোন!
পাখিঃ হুম, বল।
আমিঃ রেগে আছিস নাতো?
পাখিঃ না, বল।
আমিঃ রেগে নাই তো?
পাখিঃ না বললাম তো।
আমিঃ আই লাভ ইউ। 
পাখিঃ তোরে কিন্তু আজ!

পাখিকে দেখিয়ে নিজের গালে নিজেই একটা চড় মারলাম।
আমিঃ এদিকে আয় তো।
পাখিঃ কি?
আমিঃ দেখতো ডান গালে কি যেন হইছে না?
পাখিঃ কই দেখি?কিছু হয়নি তো।
আমিঃ এই গালে একটা থাপ্পড় মার।
পাখিঃ কেনো?
আমিঃ আম্মু বলেছে, এক গালে থাপ্পড় মারলে নাকি বউ মরে যায়।
পাখিঃ ওকে!ঠাসসস,,,

-ওহ পরিচয় তো দেওয়া হলো না।আমি মাহমুদ।অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ি।আর এতো কথাবার্তা যার সাথে,সে হলো পাখি।অনেক রাগী একটা মেয়ে।সবাই ভয় পাই কিন্তু আমি ভয় পাই না।আমিতো ওকে ভালোবাসি তাই ভয় পাই না।মাঝেমধ্যে অবশ্য একটু ভয় পাই। তখন দৌড় দেই।তারপর দুইদিন ভার্সিটির সীমানায় পাড়া দেই না।তখন আর ওর রাগ থাকে না।পরে আবারও একটা কান্ড বাঁধিয়ে ফেলি।

-"পরেরদিন আবারো ভার্সিটিতে গেলাম।পাখিকে দেখলাম এদিকেই আসছে।
আমিঃ পাখি,আই লাভ ইউ। 
পাখিঃ তোর কি এটা ছাড়া আর কোনো কথা নেই?
আমিঃ আছে তো।
পাখিঃ কি?
আমিঃ আগে আমার কথার উত্তর দে?
পাখিঃ আই হেট ইউ।
আমিঃ আচ্ছা যা,তোরে আর আই লাভ ইউ কমুনা।
পাখিঃ সত্যি? 
আমিঃ একদম।
পাখির চোখে খুশির আভাস দেখতে পেলাম।মনে হয় অনেক খুশি হয়েছে।কিন্তু আমিতো ওরে খুশিতে থাকতে দিমু না।

                                  "পরের দিন"

আমিঃ পাখি, আই লাভ ইউ! 
পাখিঃ ধুররর,
আমিঃ বিরক্ত হচ্ছিস? 
পাখিঃ অনেক বিরক্ত হচ্ছি।
আমিঃ তাহলে আমি আরো বিরক্ত করবো।
পাখিঃ ঠাসসসসস,ঠাসসসস,
পাখি দুইটা চড় মের মেরে চলে গেলো।
সেইদিনের পর থেকে চড় মারলে দুইটা করে মারে।একটা খেলে আরেকটা বিনামূল্যে।কেনো যে আমি বারবার বলতে যায়।পরে বাড়িতে এসে ঘুমিয়ে পড়লাম।পরে সকাল নয়টায় ঘুম ভাংলো।আজকে খাইছেরে, প্রপোজই করতে পারমু না মনে হয়।তাড়াতাড়ি করে খেয়ে ভার্সিটিতে এলাম।বৃষ্টি ক্লাসে চলে গেছে আজকে।
তাই আর বলা হলো না।খারাপ লাগতেছে  খুব।

-"ক্লাস শেষে বাইরে এসে,,,
পাখিঃ কিরে,মন খারাপ নাকি তোর?
আমিঃ এতক্ষণ ছিল,তবে এখন ভালো হয়ে যাবে।
পাখিঃ কিভাবে?
আমিঃ আই লাভ ইউ!! 
পাখিঃ ঠাসসসস,ঠাসসসস,,,
আমিঃ ওই!!
পাখিঃ কি?
আমিঃ আর ছয়টা হলে হাফ সেঞ্চুরি। 
পাখিঃ কীসের হাফ সেঞ্চুরি? 
আমিঃ তোর চড়ের।
পাখি মুচকি হেসে চলে গেলো।আমি আবারো খাইলাম।ওই যে,ক্রাশ খাইলাম আরকি।আমি তো এই হাসিটা দেখার জন্য সারাজীবন চড় খায়তে পারি।তারপর আরো দুইবার প্রপোজ।কিন্তু কপাল খারাপ হলে যা হয় আরকি।চড় ছাড়া আর কিছুই জুটলো না কপালে।তবুও ভালোবাসি।

-"কি করবো এখন আর?আচ্ছা, যদি ভালো নাই বাসে তাহলে বলে দেই না কেনো?
দুইদিন পর আবারো ভার্সিটিতে এলাম।কিন্তু পাখি কোথাও নেই। ফোন দিলাম।ফোনও বন্ধ। টেনশন হচ্ছে। কি হলো মেয়েটার?ভার্সিটি তো কখনো মিস দেয় না।ভার্সিটির অলি গলি ক্লাসরুম সব খুজে দেখলাম কোথাও নেই। ওর বান্ধবীদের কাছে খোঁজ নিলাম।নাহ,কেউ কিছু জানে না বলতেছে।
শেষমেশ ক্লান্ত হয়ে বসে পড়লাম পুকুর পাড়ে।কিছুক্ষণ পর খিলখিল হাসির শব্দ শুনতে পেলাম।দেখলাম পাখি আর তিনজন মেয়ে হাসতেছে আমার অবস্থা দেখে।আমাকে তাহলে বোকা বানানো হয়েছে।তবুও ভালো লাগতেছে সামনে দেখতে পেয়ে।পাখি আর ওর সাথের তিনটা মেয়ে আমার কাছে এলো।
পাখিঃ খুব মজা না?
আমিঃ হুম,খুব মজা।
পাখিঃ খুব ভালোবাসিস আমাকে তাইনা?
আমিঃ হুম,খুব বেশি ভালোবাসি।

-"ইয়াহু আমার মনে তো লাড্ডু ফুটলো।ভাবলাম এবারে হয়তো কাজ হবে।
পাখিঃ কিন্তু আমি তো বাসি না।
আমিঃ জানি তো।
পাখিঃ তাহলে কেনো ভালবাসিস?
আমিঃ ভালোবাসি তাই। 
পাখিঃ বাদ দে,এই শোন!এরা আমার খালাতো বোন।সন্ধ্যা, মাহি আর আতিয়া।
আমিঃ ওহ,
তারপর পাখি ওর খালাতো বোনদের উদ্দেশ্য করে বলল,,,
পাখিঃ আর এই হলো মাহমুদ। আমাকে প্রতিদিন প্রোপোজ করে আর প্রতিদিন কি পাই জানিস?
ওরা তিনজন একাসাথে বলে উঠল কি??
পাখি আমার কাছে এসে একগালে চড় মেরে চলে যেতে লাগল 
আমিঃ ওই!!
পাখিঃ কি?
আমিঃ এই গালে দিয়ে যা।
পাখিঃ ঠাসসস,

-"এরপর পাখি চলে গেলো।পরেরদিন ভার্সিটিতে এলে জানতে পারি সবাই পিকনিকে যাবে।আমিও যেতে চাইলাম।পরেরদিন পিকনিকে গেলে পাখি আমাকে খুব বাজেভাবে অপমান করল।কিন্তু ভালোবাসি বলে কিছু মনে করলাম না।কিন্তু ঠিক তার একটু পর,আবার আমাকে অপমান করলো সবার সামনে।আমি ওর চড় অপমান সহ্য করতে পারি কিন্তু এতোগুলো মানুষের সামনে আমাকে এইভাবে বারবার অপমান করবে?
আমি একজনের কাছে জানতে পারলাম,পিকনিকের আয়োজন নাকি আমাকে অপমান করার জন্যই করা হয়েছে।আসলে আমি ওকে খুব ভালোবাসতাম।এর জন্য অনেক প্রতিদান পেয়েছি। কিন্তু শেষমেশ এমন একটা প্রতিদান পাবো ভাবিনি।আমি তখনই পিকনিক ছেড়ে চলে আসলাম।আসার সময় পিছন ঘুরে তাকিয়ে দেখলাম,পাখি আর ওর বান্ধবীরা আমার দিকে তাকি মুখ ভেংচি মেরে হসছে আর লাফাচ্ছে। আমি সোজা বাড়ি এসে মাকে বলে গ্রাম ছেড়ে চলে গেলাম।মনে মনে ঠিক করেছি শহরে গিয়ে পড়ব।ওখানেই পড়ালেখা শেষ করব।আর কখন পাখির মুখই দেখব না।
আসলে আপনার আশপাশের কেউ যদি আপনাকে খুব ভালোবাসে,তাহলে তাকে গুরুত্ব দেন।চাই সে ছেলে হোক বা মেয়ে।এড়িয়ে যাবেননা কখনো। এড়িয়ে গেলে তখন কিছু না বুঝতে পারলে পরে এড়িয়ে যাওয়ার ফলাফল বুঝতে পারবেন।আপনি কে হ্যাঁ? কারোর অনুভূতি নিয়ে খেলার অধিকার আপনার নেই। 
_________সমাপ্তি 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

👸🏻দুষ্টো বউ👸🏻

প্রিয়তা

নুনু কাটার দিন...